বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে বৈশ্বিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের কারিকুলামে প্রয়োজনীয় সামঞ্জস্য আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানিয়েছেন, শিক্ষার্থীরা যে মাধ্যমেই পড়াশোনা করুক না কেন, তাদের মৌলিক জ্ঞান, দক্ষতা ও শেখার ক্ষেত্রে একটি অভিন্ন ন্যূনতম মান নিশ্চিত করা জরুরি। শুক্রবার ঢাকার রেডিসন হোটেলে অক্সফোর্ড একিউএ ইন্টারন্যাশনাল কোয়ালিফিকেশনস আয়োজিত ‘স্কুল লিডারস কনফারেন্স ২০২৬’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার শুধু উন্নত দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার অনুকরণ করতে চায় না, বরং বাংলাদেশ যেন একদিন বিশ্বের অন্যান্য দেশের জন্য মডেল হতে পারে, সেই স্বপ্ন নিয়ে কাজ করছে। এই লক্ষ্য অর্জনে সরকার প্রয়োজনীয় সময়, অর্থ ও কঠোর পরিশ্রম বিনিয়োগে প্রস্তুত। তিনি আরও উল্লেখ করেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মান ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু কারিকুলাম ও শিক্ষার মৌলিক মানে বড় ধরনের বৈষম্য থাকা কাম্য নয়।
প্রাথমিক শিক্ষার সংস্কার নিয়ে ববি হাজ্জাজ বলেন, বিদ্যালয়ের সময়, কার্যকর লার্নিং আওয়ার, শ্রেণিকক্ষের আয়তন ও শিক্ষার্থীর অনুপাত, অবকাঠামো এবং প্রশিক্ষিত শিক্ষকের মতো বিষয়গুলোতে সুস্পষ্ট ন্যূনতম মানদণ্ড নির্ধারণ করা হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো ধরনের প্রশিক্ষণ ছাড়া একজন শিক্ষককে শ্রেণিকক্ষের দায়িত্ব দেওয়া উচিত নয়।
ভবিষ্যৎ শিক্ষাব্যবস্থায় অ্যাক্টিভিটি-বেজড লার্নিং ও খেলাধুলার মাধ্যমে শেখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। এছাড়া ইংরেজি মাধ্যমের অভিজ্ঞতা এবং লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এলএমএস) ব্যবহারের ওপরও সরকার নজর দিচ্ছে। কারিকুলাম প্রণয়নের সময় সংশ্লিষ্ট সবার মতামতের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, কারিকুলাম, অবকাঠামো, শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তি—এই চারটি ক্ষেত্রে সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে সমতাভিত্তিক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অক্সফোর্ড একিউএ’র বাংলাদেশ ও নেপালের কান্ট্রি ডিরেক্টর শাহীন রেজা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল্লাহ আল মামুন। এছাড়া ব্রিটিশ হাইকমিশন ও ব্রিটিশ কাউন্সিলের প্রতিনিধি এবং ঢাকার বিভিন্ন ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

