ধামসোনায় আবারও গফুর চেয়ারম্যান: পুরোনো অভিজ্ঞতা ও দলীয় সমর্থনে নতুন লড়াই

সাবেক চেয়ারম্যান থেকে আশুলিয়া থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, এবার বিএনপির ঘোষিত প্রার্থী আব্দুল গফুর মিয়া – আস্থার প্রতীক হয়ে ফিরছেন সাবেক জনপ্রতিনিধি, সাবেক চেয়ারম্যানের ফেরার খবরে এলাকায় আনন্দের আবহ, জনপ্রিয়তার শীর্ষে গফুর মিয়া


নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকার সাভার উপজেলার আশুলিয়ার ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে শুরু হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। সাবেক চেয়ারম্যান ও আশুলিয়া থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আব্দুল গফুর মিয়া এবার চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করছেন, এমন খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তাঁকে ঘিরে ধামসোনা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা যাচ্ছে বলে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।

দীর্ঘদিন ধরে ধামসোনার রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত গফুর মিয়া স্থানীয় মানুষের কাছে পরিচিত মুখ। এর আগে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় ইউনিয়নের সাধারণ মানুষের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের যোগাযোগ ও পরিচয় রয়েছে। সেই পুরোনো পরিচিত মুখ আবারও চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনের মাঠে আসায় অনেকেই এটিকে স্বস্তি ও আনন্দের খবর হিসেবে দেখছেন।

স্থানীয়দের ভাষ্য, গফুর মিয়া নির্বাচন করবেন এমন প্রত্যাশা অনেক আগে থেকেই ছিল। এবার দলীয়ভাবে তাঁর নাম ঘোষণার পর সেই প্রত্যাশা আরও জোরালো হয়েছে। ইউনিয়নের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে তাঁকে নিয়ে আলোচনা চলছে এবং অনেকেই তাঁকে আবারও চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।

‘গফুর চেয়ারম্যানকে আবারও দেখতে চাই’

ধামসোনা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে গফুর মিয়ার সঙ্গে অনেকের ব্যক্তিগত ও সামাজিক যোগাযোগ রয়েছে। ফলে তাঁর প্রার্থিতার খবরকে অনেকেই নিজেদের পরিচিত ও পরীক্ষিত একজন নেতৃত্বের ফিরে আসা হিসেবে দেখছেন।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে বলেন, গফুর মিয়া চেয়ারম্যান থাকাকালে ইউনিয়নের মানুষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখতেন। সাধারণ মানুষের সমস্যা শুনতেন এবং স্থানীয় বিভিন্ন বিষয়ে সক্রিয়ভাবে ভূমিকা রাখতেন। এ কারণেই তাঁর আবার নির্বাচনে আসার খবরে মানুষের মধ্যে উৎসাহ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, এবার তিনি নির্বাচিত হলে পূর্বের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ধামসোনা ইউনিয়নের উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা আরও এগিয়ে নেবেন।

 

 

এলাকায় গফুরকে ঘিরে ‘জয়জয়কার’

দলীয় প্রার্থী হিসেবে তাঁর নাম ঘোষণার পর ধামসোনা ইউনিয়নের রাজনৈতিক অঙ্গনেও গফুর মিয়াকে ঘিরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় তাঁর সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ দেখা যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তাঁর প্রার্থিতা নিয়ে আলোচনা ও প্রচারণা বাড়ছে।

স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের একটি অংশও তাঁকে নিয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করছেন। ফলে নির্বাচনের মাঠে নামার আগেই গফুর মিয়াকে ঘিরে যে উৎসাহ তৈরি হয়েছে, তা স্থানীয় রাজনীতিতে তাঁকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে এসেছে।

দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর আবারও নির্বাচনী মাঠে

গফুর মিয়া এর আগেও ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি আশুলিয়া থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক। ফলে তাঁর রয়েছে জনপ্রতিনিধিত্ব ও রাজনৈতিক সংগঠন পরিচালনার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা।

তাঁর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার খবরকে অনেক স্থানীয় বাসিন্দা তাই নতুন কোনো মুখের আগমন হিসেবে দেখছেন না। বরং তাঁরা দেখছেন একজন পরিচিত ও অভিজ্ঞ সাবেক জনপ্রতিনিধির প্রত্যাবর্তন হিসেবে।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আমরা এমন একজন মানুষকেই চাই, যিনি আমাদের এলাকার মানুষ এবং এলাকার সমস্যা বোঝেন। গফুর চেয়ারম্যানকে আবারও চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে অনেকেই আগ্রহী।”

বংশী নদী রক্ষায় পুরোনো অবস্থান

গফুর মিয়ার রাজনৈতিক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে আসে ২০১৩ সালে প্রথম আলোর একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে।

তখন বংশী নদী শিল্পকারখানার বর্জ্যে ভয়াবহ দূষণের শিকার হচ্ছিল। ডিইপিজেডের শিল্পকারখানাগুলোর বর্জ্য নদীর পরিবেশের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলছিল।

সে সময় ধামসোনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন আব্দুল গফুর মিয়া। প্রথম আলোর অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসে, ডিইপিজেডের শিল্পকারখানায় বর্জ্য শোধনাগার বা ETP নিয়মমতো চালু না করা পর্যন্ত তিনি শিল্পকারখানার প্রয়োজনীয় ইউনিয়ন পরিষদের সনদ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিলেন।

গফুর মিয়া তখন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, তাঁর এই অবস্থানের কারণে তিনি চাপের মুখে পড়েছিলেন এবং শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে চাপ দিয়ে তাঁকে সার্টিফিকেট দিতে বাধ্য করা হয়েছিল।

বংশী নদীর পরিবেশ রক্ষায় তাঁর এই অবস্থান তাঁর জনপ্রতিনিধিত্বের সময়কার একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে আজও আলোচনায় আসে।

রাজনৈতিক প্রতিকূলতাতেও সক্রিয়

২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ও পরবর্তী সময়ে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা দায়েরের ঘটনা ঘটে। সেই সময় আব্দুল গফুর মিয়াসহ বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধেও মামলা হওয়ার খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।

গফুর মিয়া ও বিএনপির পক্ষ থেকে এসব মামলাকে রাজনৈতিকভাবে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও হয়রানিমূলক দাবি করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাগুলো প্রত্যাহারের দাবিতে বিএনপির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনও করা হয়।

স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মতে, রাজনৈতিক প্রতিকূলতার সময়েও গফুর মিয়া সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন এবং দলীয় কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থেকেছেন।

সালাউদ্দিন বাবুর আস্থায় গফুর

২০২৬ সালে ঢাকা-১৯ আসনের সংসদ সদস্য ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুর উপস্থিতিতে বিএনপির বিভিন্ন সাংগঠনিক কর্মসূচিতেও গফুর মিয়ার সক্রিয় উপস্থিতি দেখা গেছে।

সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ ধামসোনা ইউনিয়ন বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এক অনুষ্ঠানে ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবু তাঁকে ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেন বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে।

দলীয় এই ঘোষণার পর গফুর মিয়াকে ঘিরে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ দেখা দিয়েছে।

মানুষের প্রত্যাশা উন্নয়ন ও সেবায়

ধামসোনা ইউনিয়ন বর্তমানে দ্রুত পরিবর্তনশীল একটি শিল্পাঞ্চল। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, শিল্পকারখানার বিস্তার, জলাবদ্ধতা, যানজট, রাস্তা-ঘাট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পরিবেশদূষণ এবং নাগরিক সেবা এখানকার মানুষের গুরুত্বপূর্ণ দাবি।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, গফুর মিয়া যদি আবার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন, তাহলে তাঁর পূর্বের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।

বিশেষ করে একজন সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে ইউনিয়নের প্রশাসনিক বাস্তবতা সম্পর্কে তাঁর যে অভিজ্ঞতা রয়েছে, সেটিকে এবার কাজে লাগিয়ে ধামসোনাকে আরও পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য ইউনিয়নে পরিণত করার প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।

গফুরকে ঘিরে বাড়ছে প্রত্যাশা

সব মিলিয়ে ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন সামনে রেখে আব্দুল গফুর মিয়াকে ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। সাবেক চেয়ারম্যান হিসেবে পরিচিতি, দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, দলীয় নেতৃত্বের আস্থা এবং সাধারণ মানুষের একটি অংশের প্রকাশ্য সমর্থন তাঁর প্রার্থিতাকে ইতোমধ্যে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

স্থানীয়দের অনেকেই বলছেন, তাঁরা দীর্ঘদিন ধরেই গফুর মিয়ার মতো পরিচিত ও অভিজ্ঞ একজন মানুষকে আবারও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন। এবার তিনি নির্বাচনের মাঠে আসার ঘোষণা দেওয়ায় সেই অপেক্ষার অবসানের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

ধামসোনার বিভিন্ন এলাকায় এখন গফুর মিয়াকে ঘিরে চলছে আলোচনা। সমর্থকদের মধ্যে চলছে উৎসাহ-উদ্দীপনা। আর সাধারণ ভোটারদের একটি অংশের প্রত্যাশা, পুরোনো অভিজ্ঞতা ও নতুন পরিকল্পনার সমন্বয়ে গফুর মিয়া এবার ধামসোনার উন্নয়ন ও মানুষের সেবায় নতুন ভূমিকা রাখবেন।

নির্বাচনের দিন ভোটাররা সেই প্রত্যাশাকে কতটা সমর্থনে রূপ দেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।