আশুলিয়ায় নারীকে জিম্মি করে পুলিশকে ফাঁকি দিয়ে পালাল শুটার বাপ্পি, অধরা সহযোগী সুজন

নিজস্ব প্রতিবেদক : আশুলিয়ার জামগড়া চৌরাস্তা এলাকায় পুলিশের অভিযানের সময় এক নারীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে পালিয়ে গেছে আলোচিত শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘শুটার বাপ্পি’। এ সময় পুলিশ ও বাপ্পি বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনায় এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বাপ্পির সহযোগীদের আটকে রাখতে দীর্ঘ সময় ভবনটি ঘিরে অভিযান চালায় পুলিশ। তবে তার অন্যতম সহযোগী ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি সুজন এখনো অধরা রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে আশুলিয়ার জামগড়া চৌরাস্তা এলাকার চৌধুরী প্লাজার একটি ভবনে শুটার বাপ্পি ও তার সহযোগীদের অবস্থানের খবর পেয়ে অভিযান চালায় পুলিশ। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বাপ্পি ও তার সহযোগীরা গুলি ছোড়ে। জবাবে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। একপর্যায়ে দুপুর ১২টার দিকে বাপ্পি এক নারীকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে মানবঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম জানান, জিম্মি হওয়া নারীর জীবনের ঝুঁকির কথা বিবেচনা করেই পুলিশ আর গুলি চালায়নি বা তাকে আটকের চেষ্টা করেনি। পরে বাপ্পির অন্য সহযোগীদের ধরতে ভবনটি ঘিরে অভিযান অব্যাহত রাখা হয়।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুটার বাপ্পির প্রকৃত নাম মো. আলী ওরফে ফিরোজ আলম ওরফে আহসানুল হক। এলাকায় তিনি ‘বাপ্পি’ বা ‘শুটার বাপ্পি’ নামে পরিচিত। শুরুতে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকলেও পরবর্তীতে তিনি অস্ত্রধারী সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র গড়ে তোলেন।

গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) তথ্য বলছে, তার নেতৃত্বে প্রায় ২৫ সদস্যের একটি সক্রিয় সন্ত্রাসী চক্র পরিচালিত হতো। আশুলিয়ার জামগড়াকে কেন্দ্র করে জুট ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদা আদায় এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ছিল তাদের প্রধান কর্মকাণ্ড। এছাড়া মতিঝিল, সবুজবাগ, ডেমরা ও ফকিরাপুল এলাকাতেও তার অপরাধচক্রের বিস্তৃতি ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। গ্যাংয়ের সদস্যদের সক্রিয় রাখতে বিভিন্ন সময় আর্থিক সহায়তাও দিতেন তিনি।

গোপন সূত্রে জানা গেছে, শুটার বাপ্পির অন্যতম সহযোগী হিসেবে পরিচিত ভাদাইল এলাকার কিশোর গ্যাং লিডার সুজন অবৈধ অস্ত্র ও মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনায় ভূমিকা রাখতেন। অভিযোগ রয়েছে, তার মাধ্যমে এলাকায় অস্ত্র ও মাদকের চালান পৌঁছাত। সুজনের বিরুদ্ধে হানি ট্র্যাপ, চাঁদাবাজি, অবৈধ অস্ত্র ব্যবসা ও মাদক কারবারসহ বিভিন্ন অভিযোগে মামলা রয়েছে এবং তিনি একটি মামলায় ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

পুলিশ জানায়, শুটার বাপ্পির বিরুদ্ধে হত্যা, হত্যাচেষ্টা, অস্ত্র, মাদক ও চাঁদাবাজিসহ কমপক্ষে ১১টি মামলা রয়েছে। বিভিন্ন সময় গ্রেফতার এড়াতে তিনি নাম ও অবস্থান পরিবর্তন করতেন। এছাড়া এর আগেও জামগড়া এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী গ্রুপের সঙ্গে গোলাগুলির ঘটনায় তার বাহিনীর সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

২০২৫ সালের জুনে রাজধানীর ফকিরাপুল এলাকায় ডিবি পুলিশের ওপর গুলি চালিয়ে পালিয়ে যাওয়ার পর দেশজুড়ে অভিযান শুরু হয়। পরে যশোরের একটি আস্তানা থেকে তাকে আটক করা হয়। সে সময় তিনি গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের হুমকি দিয়েছিলেন বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বিভিন্ন সময় অভিযান চালিয়ে একাধিক বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও বিপুল পরিমাণ গুলি উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে ডেমরায় তার বাসায় পরিচালিত অভিযানে আরও অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে বলেও জানানো হয়।

পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, শুটার বাপ্পি ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে তার অন্যতম সহযোগী ও ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি সুজনসহ পলাতক অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কাজ করছে।