যবিপ্রবিতে স্টার্টআপ প্রকল্পে মিলবে ৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা অনুদান

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগে নতুন করে যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে ‘জাস্ট ইনোভেশন সেন্টার (জেআইসি)’। ইমপ্রুভিং কম্পিউটার অ্যান্ড সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং টারশিয়ারি এডুকেশন প্রজেক্টের (আইসিএসইটিইপি) আওতায় এই ইনোভেশন সেন্টারটি প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের প্রযুক্তিভিত্তিক নতুন উদ্যোগগুলোকে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ, মেন্টরশিপ ও ব্যবসায়িক পরামর্শ দিয়ে টেকসই স্টার্টআপে রূপান্তর করা।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়নাধীন এই প্রকল্পে অর্থায়ন করছে বাংলাদেশ সরকার ও এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (এডিবি)। প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিত স্টার্টআপগুলো সর্বোচ্চ ৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্থায়ন পাওয়ার সুযোগ পাবে। তবে সব প্রকল্প সমান হারে অর্থ পাবে না; ইভালুয়েশন কমিটির সুপারিশ ও প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তা যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতে বাজেট বরাদ্দ চূড়ান্ত করা হবে। নারী উদ্যোক্তাদের এই প্রকল্পে আবেদনের জন্য বিশেষভাবে উৎসাহিত করা হয়েছে।

আগ্রহী স্টার্টআপ দলগুলোকে ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের বিস্তারিত প্রজেক্ট প্রপোজাল ও এক বছরের বাজেট জমা দিতে হবে। আবেদনকারী প্রতিটি দলে সিএসই বিভাগের অন্তত দুজন শিক্ষক—একজন প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর ও অন্যজন ডেপুটি প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর—থাকতে হবে। এছাড়া দলে বর্তমান বা সাবেক শিক্ষার্থী মিলিয়ে সর্বোচ্চ পাঁচজন সদস্য যুক্ত করা যাবে। অর্থাৎ একটি দলে মোট সদস্য সংখ্যা হবে সর্বোচ্চ সাতজন। প্রতিটি দল একটি মাত্র প্রস্তাব জমা দিতে পারবে এবং প্রাথমিকভাবে ৩০ সেপ্টেম্বর সাক্ষাৎকার গ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে।

নির্বাচিত স্টার্টআপগুলো এক বছর ইনোভেশন সেন্টারের ইনকিউবেশন প্রোগ্রামে যুক্ত থাকবে। এই সময়ে তারা সিএসই বিভাগে শেয়ার্ড অফিস স্পেস, মিটিং ও প্রেজেন্টেশনের সুযোগ পাবে। পাশাপাশি মেন্টরশিপ, মার্কেট অ্যানালাইসিস, বিজনেস মডেল তৈরি এবং লিগ্যাল লিটারেসির ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। প্রোগ্রাম শেষে প্রতিটি স্টার্টআপকে নিজস্ব আইটি কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধন করতে হবে এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরু করে আয় করার প্রমাণ দেখাতে হবে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন ইউনিটের (পিআইইউ) হেড অধ্যাপক ড. মো. আলম হোসেন জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের উপস্থিতিতে গভর্নিং বডির সভায় এই প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে যবিপ্রবিতে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে এবং শিক্ষার্থীরা ব্যবসায়িক ও কারিগরি দিক থেকে অভিজ্ঞ পেশাজীবীদের পরামর্শ নিতে পারবে। প্রকল্পের বরাদ্দকৃত অর্থ শুধুমাত্র উন্নয়ন ও বাস্তবায়নের কাজে ব্যয় করতে হবে এবং যবিপ্রবির আর্থিক বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।