প্রকাশ : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭: ৩০। গত জুন মাসে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অনূর্ধ্ব-২০ দলের জন্য ইংলিশ কোচ জেরার্ড জোনসকে নিয়োগ দিয়েছিল বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। তাকে সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছিল। তবে দুই বছরের চুক্তির মাত্র দুই মাস পরই তাকে বরখাস্ত করা হয়। বাফুফে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কোচের চরম অপেশাদারিত্ব এবং দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের কারণেই তারা এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।
চাকরি হারানোর পর যুক্তরাষ্ট্রের কানসাস সিটি থেকে জোনস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিযোগ করেন যে, বাংলাদেশে তাকে ‘মৃত্যুর হুমকি’ দেওয়া হয়েছিল। তবে বাফুফে এই দাবিকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন ও বানোয়াট বলে উড়িয়ে দিয়েছে। ফেডারেশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জোনসের এমন দাবির কোনো প্রমাণ নেই এবং তিনি চাইলে আইনের আশ্রয় নিতে পারতেন। বাফুফে দাবি করে, তাদের কাছে সিসিটিভি ফুটেজসহ ঘটনার অনেক প্রমাণ রয়েছে যা কোচের অপেশাদার আচরণের সাক্ষ্য দেয়।
জানা গেছে, জোনস পেশাদার কোচ হিসেবে ন্যূনতম মানদণ্ড বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। তিনি আগস্ট মাসে আলোচনার পথ এড়িয়ে বেতনের বিষয়ে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে ফেডারেশনকে হেয় করার চেষ্টা করেন, যা চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এছাড়া মতিঝিলের ইউসিবি ব্যাংকে গিয়ে ব্যাংক ম্যানেজারের সঙ্গে উগ্র আচরণ এবং হোটেল পুলিশ ডাকার মতো নাটকীয় ঘটনা ঘটিয়ে তিনি বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছেন।
এশিয়ান কাপ বাছাই পর্বের আগে ও চলাকালীন দলের পরিবেশ নষ্ট করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ বিজয়ী দলটি জোনসের অধীনে বাছাই পর্বে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই গড়ে তুলতে পারেনি। এর আগে ১০ আগস্ট জোনস ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে দাবি করেছিলেন যে, তার পরিবার সংকটে আছে এবং তিনি জীবন নিয়ে আতঙ্কে আছেন। ১৯ আগস্ট টিম হোটেলে সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশুর সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়ে তিনি ৯৯৯-এ কল করে পুলিশ ডেকেছিলেন। উজবেকিস্তানে যাওয়ার আগে কোচ ও অধিনায়ককে ছাড়াই সংবাদ সম্মেলন করতে হয়েছিল ফেডারেশনকে।
গত ৩১ আগস্ট স্বাগতিক উজবেকিস্তানের বিপক্ষে ২-০ এবং গত ৩ সেপ্টেম্বর সিরিয়ার বিপক্ষে ৩-০ গোলে হারের পর বরখাস্ত হন প্রধান কোচ জোনস। টুর্নামেন্টে বাকি সময় তার জায়গায় ভারপ্রাপ্ত প্রধান কোচের দায়িত্ব পালন করেন সহকারী কোচ আতিকুর রহমান মিশু। সহকারী কোচকে দলের সঙ্গে ভিড়তে না দেওয়া এবং এককভাবে সব সিদ্ধান্ত নেন ব্রিটিশ কোচ। নিজের দুই দশকের ক্যারিয়ারের দোহাই দিয়ে জোনস দাবি করেছেন, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস ও হুমকি পাওয়া গ্রহণযোগ্য নয়। তবে ফেডারেশন তার সব অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে, কোচিং স্টাফদের সঙ্গে বিরোধ ও একক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রবণতাই তার বিদায়ের মূল কারণ।

