জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আজ দিন নির্ধারণ করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে এই সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে গত ১৭ আগস্ট মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য থাকলেও কোনো সাক্ষী আদালতে উপস্থিত হননি। পরবর্তীতে আদালত ১০ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। মামলাটিতে মোট ২৮ জন সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। সর্বশেষ গত ১৬ জুলাই বস্ত্র অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (কারিগরি) মো. ফয়সাল কবির আদালতে সাক্ষ্য প্রদান করেছিলেন।
দুদকের করা এই মামলায় বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন এবং অর্থপাচারের গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। দুদকের অভিযোগপত্র অনুযায়ী, বেনজীর তার সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর এবং ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের তথ্য দিয়েছিলেন। তবে তদন্তে তার নামে যথাক্রমে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকা ও ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়।
তদন্ত প্রতিবেদনে বেনজীরের বৈধ আয় ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৮ টাকা এবং নিট সঞ্চয় ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ টাকা হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এর ভিত্তিতে প্রায় ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, সম্পদের অর্থের উৎস ও মালিকানা গোপন করার লক্ষ্যে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান এবং যৌথ মূলধনি কারবারে অর্থ বিনিয়োগ, স্থানান্তর ও রূপান্তর করা হয়েছে।
২০২৪ সালে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে দুদক অনুসন্ধানে নামে। একই বছরের ১৫ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিল করা হলে আদালত তা আমলে নিয়ে তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন। বেনজীর আহমেদ আদালতে হাজির না হওয়ায় গত ৩ মে তার অনুপস্থিতিতেই অভিযোগ গঠন করা হয়, যার মাধ্যমে মামলাটির আনুষ্ঠানিক বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

