সাভারে এসআই আলতাফ হোসেন হত্যা: ৮ আসামির রিমান্ড মঞ্জুর

প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১: ৩৮। ঢাকার সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) এসআই আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নতুন করে আরও আট আসামির রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার বিকেলে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজুল ইসলাম সোহাগের আদালত এই আদেশ প্রদান করেন।

রিমান্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মো. আলাউদ্দিন, মো. আপন, জিহাদ, ইমরান হোসেন, নূর মোহাম্মদ রুদ্র, গোলাম রাব্বি, বিল্লাল এবং দেলোয়ার হোসেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক আরিফ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এদের মধ্যে ছয়জনের পাঁচদিন এবং বাকি দুজনের তিনদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সাভার মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. জাকির আল আহসান আসামিদের আদালতে হাজির করে প্রত্যেকের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। তদন্তের স্বার্থে ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার এবং জড়িত অন্যদের শনাক্ত করার জন্য আসামিদের পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে আবেদন করলেও রাষ্ট্রপক্ষ তার বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত রিমান্ডের আদেশ দেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সাভারের বরদেবী পশ্চিমপাড়ায় এক ব্যক্তির অটো রাখা নিয়ে সৃষ্ট তর্কবিতর্ক থামাতে গিয়ে এসআই আলতাফ হোসেন আসামিদের তোপের মুখে পড়েন। প্রাণ বাঁচাতে তিনি তার ছেলের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘গ্র্যান্ড ফ্যাশন’-এ আশ্রয় নিলে রাত ৮টা ১০ মিনিটের দিকে আসামিরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে হামলা চালায়। তারা রড, পাইপ, হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করে এবং তাকে বাঁচাতে আসা তার ছেলে আরিফুল ইসলামকেও কুপিয়ে আহত করে। এ সময় তারা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর চালিয়ে ৫ লাখ টাকার ক্ষতি এবং ক্যাশবক্স থেকে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা লুট করে। পরবর্তীতে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শিউলী পারভীন ১৫ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছিলেন। এর আগে সোমবার প্রধান আসামি জহুরুলকে পাঁচদিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছিলেন আদালত।