দীর্ঘ বিরতি শেষে জাতীয় স্টেডিয়ামে ফিরছে ঘরোয়া ফুটবলের উত্তেজনা

২০২১ সালের ২০ সেপ্টেম্বর আবাহনী ও বসুন্ধরা কিংসের মধ্যকার ম্যাচের পর সংস্কারের জন্য বন্ধ হয়ে গিয়েছিল দেশের ফুটবলের ঐতিহাসিক এই ঠিকানা। এরপর কেটে গেছে প্রায় পাঁচ বছর। এই দীর্ঘ সময়ে খেলোয়াড়, দল এবং মাঠের চেহারা বদলে গেলেও জাতীয় স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে আর শোনা যায়নি ঘরোয়া ফুটবলের সেই চেনা গর্জন। তবে এবার সেই নীরবতা ভাঙার অপেক্ষা শুরু হয়েছে। আন্তর্জাতিক ফুটবল ফিরে আসার পর বাফুফের পরিকল্পনা এখন আরও এক ধাপ এগিয়ে। সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের পর দেশের সবচেয়ে ঐতিহ্যবাহী এই ফুটবল ভেন্যুতে ঘরোয়া ফুটবলের বড় ম্যাচগুলো ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ভবনে কমপিটিশন, প্রকিউরমেন্ট ও গ্রাউন্ডস কমিটির যৌথ সভায় ভেন্যুগুলোর বর্তমান অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। সভা শেষে গ্রাউন্ডস কমিটির চেয়ারম্যান ইকবাল হোসেন এই প্রত্যাবর্তনের সম্ভাবনার কথা জানান। তিনি বলেন, সাফের পর ঘরোয়া ফুটবলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচগুলো আমরা ঢাকা স্টেডিয়ামে আয়োজনের চিন্তাভাবনা করছি। সেটা হতে পারে ফেডারেশন কাপের ফাইনাল বা লিগের কিছু বড় ম্যাচ। একসময় বড় ম্যাচ মানেই ছিল এই মাঠ, যেখানে গ্যালারিভর্তি দর্শক ও পতাকার ঢেউয়ে ঢাকার ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ হিসেবে এটি পরিচিত ছিল। সংস্কারের কারণে সেই দৃশ্য হারিয়ে গেলেও এখন তা ফেরানোর চেষ্টা চলছে।

তবে এই প্রত্যাবর্তনের মঞ্চ প্রস্তুত করতে বাফুফে অন্যান্য মাঠের দিকেও নজর দিচ্ছে। চাঁদপুর স্টেডিয়ামে পিচ সরিয়ে ফুটবলের জন্য ঘাস লাগানোর কাজ চলছে এবং ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বাফুফের প্রতিনিধিদল মাঠটি পরিদর্শন করবে। এছাড়া গাজীপুর, বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনা, কুমিল্লা ও মুন্সিগঞ্জের ভেন্যুগুলোকেও ঘরোয়া ম্যাচ আয়োজনের উপযোগী বলে মনে করছে ফেডারেশন।

এদিকে ঘরোয়া ফুটবল ফেরার এই গল্পের পাশাপাশি সূচি নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তাও রয়েছে। ১৮ ও ২২ সেপ্টেম্বর নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী লিগ ও ফেডারেশন কাপের ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে, তবে দশটি ক্লাব ছয় দফা দাবি জানিয়ে বাফুফেকে চিঠি দিয়েছে। ক্লাবগুলোর দাবিতে লিগ পেছানোর সরাসরি কথা না থাকলেও সূচি নিয়ে তাদের আপত্তির বিষয়টি স্পষ্ট। লিগ কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন অবশ্য আপাতত পুরোনো সূচিতেই অটল। তিনি বলেন, ক্লাব এবং ফুটবল ফেডারেশন একে অপরের পরিপূরক। ক্লাবকে বাদ দিয়ে তো আমরা খেলতে পারব না। ক্লাব যদি না খেলতে চায়, আমাদের ইসি কমিটি বসে সিদ্ধান্ত নেব। আপাতত আগের সূচি অনুযায়ীই লিগ শুরু হবে।

আগামী ৪ থেকে ১৭ নভেম্বর ঢাকায় সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ অনুষ্ঠিত হবে। সেই টুর্নামেন্ট সামনে রেখে স্টেডিয়ামকে প্রস্তুত করা হচ্ছে। সাফের আন্তর্জাতিক ফুটবলের উত্তেজনা শেষ হওয়ার পরই যদি ঘরোয়া ফুটবলের বড় ম্যাচ সেখানে ফেরে, তাহলে এই প্রত্যাবর্তন হবে আরও অর্থবহ। পাঁচ বছরের নীরবতা কাটিয়ে জাতীয় স্টেডিয়াম শুধু তার দরজা খুলবে না, বরং আবার জেগে উঠবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দলের লড়াই আর দর্শকের গর্জনে।