চীনে একাকীত্ব ঘিরে গড়ে ওঠা ‘সোলো ইকোনমি’ ১ ট্রিলিয়ন ডলার ছাড়াল

১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ১২:৩৪ মিনিটে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা গেছে, চীনে একাকী বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশটিতে নতুন ধরনের এক ভোক্তা অর্থনীতি গড়ে উঠেছে, যা ‘একাকিত্ব কেন্দ্রীক অর্থনীতি’ বা ‘সোলো ইকোনমি’ নামে পরিচিত। গবেষণা প্রতিষ্ঠান ডিসকভারি রিপোর্টসের এক হিসাবে দেখা গেছে, ২০২৫ সালেই চীনের এই একক-ব্যক্তির বাজারের আকার এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিয়ে, সন্তান নেওয়া বা নিজের বাড়ির মালিক হওয়ার মতো সনাতন সামাজিক সাফল্যের মানদণ্ডগুলো ক্রমশ গুরুত্ব হারাচ্ছে। মূলত সন্তান লালন-পালন ও বাড়ি কেনার অতিরিক্ত ব্যয় এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের কারণে চীন, জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় একক-ব্যক্তির পরিবারের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।

এই সামাজিক পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানও একা মানুষের জন্য বিশেষায়িত পণ্য ও সেবা নিয়ে হাজির হচ্ছে। বাজারে এখন একা মানুষের জন্য অল্প পরিমাণ খাবার, একক ভ্রমণসঙ্গী, ব্যক্তিগত ফটোগ্রাফার, একক কারাওকে বুথ, ভিডিও গেম, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সঙ্গী এবং স্বল্পদৈর্ঘ্যের নাটকের মতো অভিনব সেবার চাহিদা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর পাশাপাশি একা থাকা মানুষদের মধ্যে বিড়াল ও কুকুরের মতো পোষা প্রাণী পালনের প্রবণতাও বাড়ছে। ফলে পোষা প্রাণীর খাদ্য, চিকিৎসাসেবা এবং বিভিন্ন বিলাসপণ্যের বাজারও দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে।

তবে একাকীত্বের এই বিস্তারের নেতিবাচক স্বাস্থ্যগত প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়ায় একাকিত্ব এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা দূর করতে সরকারিভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ ও কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। অন্যদিকে, ভবিষ্যতে বয়স্ক একক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনাকে সামনে রেখে চীনে ‘সিলভার ইকোনমি’ বা প্রবীণদের বাজারও বেশ দ্রুত বড় হচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, একা থাকা এখন আর সাময়িক কোনো জীবনপর্ব নয়, বরং এটি একটি স্থায়ী সামাজিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতায় রূপ নিচ্ছে। আধুনিক প্রযুক্তি ও নিত্যনতুন সেবার সহজলভ্যতা মানুষকে দীর্ঘ সময় একা থাকার সুযোগ করে দিচ্ছে, যা ভবিষ্যতে এই ‘সোলো ইকোনমি’কে বিশ্বের অন্যান্য দেশেও ছড়িয়ে দিতে পারে।