দীর্ঘ দুই মৌসুম পর উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে ফিরেই রাজকীয় এক জয় পেয়েছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ওল্ড ট্রাফোর্ডে নবাগত আজারবাইজানের ক্লাব সাবাহ এফকে-কে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে তিনবারের ইউরোপসেরারা। চ্যাম্পিয়নস লিগের এই রাতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের পাশাপাশি গোল-উৎসব করেছে জার্মান পরাশক্তি বায়ার্ন মিউনিখও। অন্যদিকে, ইতালিয়ান ক্লাব কোমো নিজেদের ঘরের মাঠে স্মরণীয় এক জয়ের মধ্য দিয়ে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে অভিষেক রাঙিয়েছে।
গত মৌসুমে ইউরোপের কোনো স্তরের টুর্নামেন্টেই খেলার সুযোগ পায়নি রেড ডেভিলরা। তবে চ্যাম্পিয়নস লিগের নতুন দল সাবাহর বিপক্ষে নিজেদের শক্তি ও স্কিলের স্পষ্ট ব্যবধান ফুটিয়ে তোলে মাইকেল ক্যারিকের দল। যদিও ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে সময়টা ভালো যাচ্ছে না তাদের; হাল সিটি, ইপসউইচ ও এভারটনের বিপক্ষে প্রথম তিন ম্যাচে তারা পেয়েছে মাত্র চার পয়েন্ট। তবে সাবাহর বিপক্ষে শুরু থেকেই দাপট দেখায় তারা। ম্যাচের ২৭ মিনিটে তরুণ ডিফেন্ডার প্যাট্রিক ডরগুর দারুণ এক ক্রস থেকে গোলমুখ খোলেন মাতেউস কুনিয়া। এরপর প্রথমার্ধের বিরতির ঠিক আগে মাত্র ৩ মিনিটের ব্যবধানে আরও দুই গোল করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় ইউনাইটেড। টিলেমান্সের পাস থেকে ঠাণ্ডা মাথায় দলের দ্বিতীয় গোলটি করেন অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেজ। এর কিছুক্ষণ পরই এমবেউমোর পাসে সাবাহর গোলরক্ষককে কাটিয়ে বল জালে জড়ান বেনইয়ামিন সেসকো।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সফরকারী সাবাহর কাজাখ গোলরক্ষক পকাতিলেভ এক মারাত্মক ভুল করে বসেন। ফ্রি-কিক থেকে জিরকজির তৈরি করা আক্রমণ ক্লিয়ার করতে গিয়ে তিনি ভুল করলে সুযোগের পূর্ণ সদ্ব্যবহার করেন লিসান্দ্রো মার্তিনেজ। ফাঁকা জালে সহজেই বল পাঠিয়ে ৪-০ ব্যবধান নিশ্চিত করেন এই আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার। আগামী রবিবার ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে মর্যাদার ডার্বির আগে এই সহজ জয় ক্যারিকের শিষ্যদের আত্মবিশ্বাস জোগাবে সন্দেহ নেই। অন্যদিকে, মাত্র নয় বছর আগে প্রতিষ্ঠিত আজারবাইজানের ক্লাব সাবাহর জন্য এই মঞ্চে আসাই ছিল এক বড় স্বপ্ন পূরণের গল্প।
বৃহস্পতিবার রাতে আরেক ইউরোপীয় পরাশক্তি বায়ার্ন মিউনিখ ঘরের মাঠে ৫-০ গোলের বড় জয় পেয়েছে। নরওয়ের ক্লাব বোডো/গ্লিমটের বিপক্ষে প্রথমার্ধে বায়ার্নের আক্রমণভাগ বারবার ধাক্কা খেয়ে হতাশ হলেও দ্বিতীয়ার্ধে চেনা ছন্দে ফেরে ভিনসেন্ট কোম্পানির দল। ৪৭ মিনিটে জামাল মুসিয়ালার গতিময় শটে ডেডলক ভাঙার পর বাভারিয়ান ক্লাবটি গোলবন্যায় ভাসায় প্রতিপক্ষকে। ম্যাচের ৬০ মিনিটে দারুণ এক হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন। বায়ার্নের হয়ে চ্যাম্পিয়নস লিগে ৩৯ ম্যাচে এটি তাঁর ৩৪তম গোল। এর কিছুক্ষণ পরই চোখধাঁধানো হাফ-ভলিতে স্কোরলাইন ৩-০ করেন আলফনসো ডেভিস। আর ম্যাচের শেষ দিকে ফরাসি ফরোয়ার্ড মাইকেল ওলিসে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে চমৎকার দুটি গোল করে বায়ার্নের ৫-০ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত করেন।
এদিকে সেস্ক ফ্যাব্রেগাসের কোচিংয়ে ইউরোপীয় শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে ঐতিহাসিক এক শুরু পেয়েছে ইতালিয়ান ক্লাব কোমো। নিজেদের ঘরের মাঠ স্তাদিও সিনিগালিয়াতে জার্মান ক্লাব আরবি লাইপজিগকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে তারা। এই ম্যাচের আগে উয়েফার নিয়ম মেনে ঘরের মাঠ প্রস্তুত করাই ছিল কোমোর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। সংস্কার কাজ শেষ না হলে তাদের ২০০ কিলোমিটার দূরে সাসসুয়োলোর মাঠে খেলতে হতো। তবে ঘরের মাঠের পুরো সুবিধা নিয়ে ম্যাচের ১৫ মিনিটে মার্তিন বাতুরিনার গোলে এগিয়ে যায় কোমো। এরপর তাসো দুভিকাস ও আসানে দিয়াওয়ের গোলে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। লাইপজিগের হয়ে অ্যান্ড্রিজা মাকসিমোভিচ এক গোল শোধ করলেও অতিরিক্ত সময়ে মাক্সিমো পেরোনের গোলে বড় জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে কোমো।
রাতের অন্য ম্যাচে প্রাগের মাঠে রোমাঞ্চকর এক জয় পেয়েছে ফরাসি ক্লাব লাঁস। নির্ধারিত সময় শেষে পিছিয়ে থাকার পর যোগ করা সময়ে ২ গোল করে স্বাগতিক স্লাভিয়া প্রাগকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়েছে তারা। তবে দিনের প্রথম দুটি ম্যাচ ড্রয়ে নিষ্পত্তি হয়েছে। ঘরের মাঠে ইতালিয়ান ক্লাব রোমাকে ১-১ গোলে রুখে দিয়েছে তুর্কি ক্লাব ফেনেরাবাচে। এছাড়া ডাচ ক্লাব পিএসভি আইন্দহফেন ও ইউক্রেনের শাখতার দোনেৎসকও ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট ভাগাভাগি করেছে।

