দক্ষিণ কোরিয়া ফুটবল সংস্থার কার্যালয়ে সিউল পুলিশের অভিযান

সাবেক কোচ হং মিয়ুং-বোকে নিয়োগের প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগে দক্ষিণ কোরিয়া ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (কেএফএ) কার্যালয়ে অভিযান চালিয়েছে সিউল পুলিশ। বৃহস্পতিবার এই তল্লাশি ও জব্দ অভিযানটি চালানো হয়, যা মূলত সংস্থাটির বিতর্কিত নিয়োগ প্রক্রিয়ার তদন্তের একটি অংশ।

মিয়ুং-বো ২০২৪ সালে দ্বিতীয় দফায় জাতীয় দলের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তবে তার নিয়োগের শুরু থেকেই নানা প্রশ্ন উঠতে থাকে। বিদেশি কোচ খোঁজার দীর্ঘ প্রক্রিয়া হঠাৎ থামিয়ে দিয়ে খুব সংক্ষিপ্ত একটি বৈঠকের পরই তাকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। পরবর্তীতে ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তদন্তেও উঠে আসে যে, সংস্থাটি নিয়োগের প্রচলিত নিয়ম ভেঙেছিল। যদিও মন্ত্রণালয় কোনো ফৌজদারি অপরাধের প্রমাণ না পাওয়ায় চুক্তি বাতিলের নির্দেশ দেয়নি।

বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়ার পারফরম্যান্স ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। সন হিউং-মিন, কিম মিন-জায়ে ও লি কাং-ইনের মতো তারকা খেলোয়াড় নিয়ে গঠিত দলটিকে 'সোনালি প্রজন্ম' বলা হলেও মিয়ুং-বোর কোচিংয়ে তারা দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ১-০ গোলে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। এছাড়া সেই ম্যাচে সন হিউং-মিনকে প্রথমার্ধে বেঞ্চে বসিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়। বিশ্বকাপের ব্যর্থতার পর জুন মাসে মিয়ুং-বো পদত্যাগ করেন।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জায়ে মিয়ুং এই ব্যর্থতার জন্য সংস্থার শীর্ষ পদে অযোগ্য ব্যক্তিদের পদোন্নতিকে দায়ী করেন এবং স্বজনপ্রীতি ও দলাদলির প্রতি ইঙ্গিত করেন। এছাড়া জুলাইয়ের সংসদীয় শুনানিতে মিয়ুং-বোর ৩৮০ কোটি ওনের বেতন নিয়েও প্রশ্ন ওঠে, যদিও তিনি নিজেই সেই অংকের পরিমাণ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিলেন।

ফুটবল সংস্থার অভ্যন্তরীণ নিয়োগ বিতর্কে পুলিশি হস্তক্ষেপ আদতে কতটা সহায়ক হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি হলেও, ফুটবল প্রশাসনে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক চাপ দীর্ঘমেয়াদে সংস্থার স্বাধীন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সামর্থ্যকে দুর্বল করতে পারে। বিশ্বজুড়ে ফিফা রাষ্ট্রীয় প্রভাবমুক্ত ফুটবল প্রশাসনকে সদস্য দেশগুলোর জন্য একটি বাধ্যতামূলক শর্ত হিসেবেই দেখে। ফলে সিউলের এই অভিযান দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবলের দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত উন্নতির পথ কতটা প্রশস্ত করবে, সে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।