দেশে প্রতি দুই নমুনা পরীক্ষায় একজনের হাম শনাক্ত

দেশে হাম শনাক্তের জন্য বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুমোদিত একমাত্র সরকারি পরীক্ষাগার হলো জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের ন্যাশনাল পোলিও অ্যান্ড মিজেলস–রুবেলা ল্যাবরেটরি। চলমান হামের প্রাদুর্ভাবের সময় দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল থেকে পাঠানো নমুনা এখানে কোনো খরচ ছাড়াই পরীক্ষা করা হয়। এছাড়া আইসিডিডিআরবি মূলত গবেষণার উদ্দেশ্যে হামের পরীক্ষা করে থাকে এবং সম্প্রতি রাজধানীর কিছু বেসরকারি হাসপাতালেও ফি দিয়ে এই পরীক্ষা করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

ন্যাশনাল পোলিও অ্যান্ড মিজেলস–রুবেলা ল্যাবরেটরির তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত মোট ৩৯ হাজার ৪৬১ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০ হাজার ৪৪৬ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে, যা মোট পরীক্ষার ৫১ দশমিক ৮২ শতাংশ। অর্থাৎ প্রতি দুজন রোগীর নমুনা পরীক্ষায় একজন হামে আক্রান্ত হিসেবে পাওয়া যাচ্ছে। গত বছর এই ল্যাবরেটরিতে প্রায় ছয় হাজার নমুনা পরীক্ষা করে ১৩২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছিল।

ল্যাবরেটরির প্রধান খন্দকার মাহবুবা জামিল জানান, গত বছরের ডিসেম্বর থেকেই হাম শনাক্তের হারে ঊর্ধ্বগতি লক্ষ করা যায়। জানুয়ারিতে শনাক্তের হার ডিসেম্বরের তুলনায় দ্বিগুণ এবং ফেব্রুয়ারিতে জানুয়ারির তুলনায় আবার দ্বিগুণ হয়। এই তথ্যের ভিত্তিতেই সরকার দেশের ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলা ও পৌরসভাকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করে ৫ এপ্রিল থেকে শিশুদের টিকা দেওয়ার কার্যক্রম শুরু করে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের তথ্যমতে, ১৫ মার্চ থেকে গতকাল সকাল ৮টা পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৩২ জন চিকিৎসা নিতে এসেছেন। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৪৪৪ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১ লাখ ১৩ হাজার ২০০ জন। এই সময়ের মধ্যে ল্যাবরেটরিতে ১৭ হাজার ৪০ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এ বছর মোট ৮৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের অধিকাংশ শিশুই টিকার আওতার বাইরে ছিল।