একসময়ের দাপুটে পুলিশ সুপার (এসপি) শেখ রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অঢেল সম্পদ অর্জনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। একইসঙ্গে তার বড় ভাই এলজিইডির অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শেখ মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধেও পিরোজপুরে প্রকল্পের আওতায় শত শত ভুয়া ও কল্পিত স্কিম দেখিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় আসামি হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে অবৈধ টাকায় দেশের তিনটি ইপিজেডে বেনামে প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে।
গোয়েন্দা প্রতিবেদন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা পড়া নথি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এসপি রফিকুল নিজের পদমর্যাদাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আত্মীয়-স্বজনের নামে তিনটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন। এগুলো হলো নারায়ণগঞ্জ ইপিজেডের মিখাইল প্লাস্টোপ্যাক লিমিটেড, কুমিল্লা ইপিজেডের গ্রীন স্টার ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড এবং মোংলা ইপিজেডের হানসেং পেপার অ্যান্ড অ্যাকসেসরিজ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত সিআইডির এসএস হিসেবে কর্মরত থাকা রফিকুল ইসলামকে পটপরিবর্তনের পর পিরোজপুর পিবিআইতে বদলি করা হয়। নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি দাবি করেন, তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে মামলাটি মূলত শত্রুতার কারণে হয়েছে।
তদন্তে জানা গেছে, এসব কারখানা শুল্কমুক্ত সুবিধায় বিদেশ থেকে কাঁচামাল আমদানি করে ভুয়া রপ্তানি নথি তৈরি করে তা স্থানীয় খোলা বাজারে বিক্রি করে দেয়। বিশেষ করে মিখাইল প্লাস্টোপ্যাক লিমিটেড সরকারি আদেশ অমান্য করে নিষিদ্ধ পলিথিন উৎপাদন ও সরবরাহ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের নেপথ্যে রয়েছেন তার বেয়াই গোলাম মোস্তফা সোহেল এবং খালাতো ভাই মাসুম রহমান বাঁধন ও মামাতো ভাই আশরাফুল আলম সাধন। এসপির বিভিন্ন ট্যুর ও প্রতিষ্ঠানের ছবিতে তাকে তার আত্মীয়-স্বজন ও কর্মচারীদের সঙ্গে ল্যান্ড প্রজেক্টের ম্যাপ দেখিয়ে প্রচারণা চালাতে দেখা গেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে করা অভিযোগে বলা হয়েছে, রফিকুল ইসলাম বিদেশে পলাতক আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছেন এবং বিটকয়েন ও ডিজিটাল কারেন্সির মাধ্যমে ‘বিপ্লবী তহবিল’ গঠনের নামে অর্থ পাচার করছেন। এনক্রিপ্টেড অ্যাপ ব্যবহার করে তিনি এই গোপন নেটওয়ার্ক পরিচালনা করেন। অবৈধভাবে উপার্জিত অর্থ হুন্ডি পদ্ধতির মাধ্যমে পাচার করা হয় বলে সূত্র জানায়।
অন্যদিকে, দুদকের নথিতে বলা হয়েছে, পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক এমপি মহিউদ্দীন মহারাজ ও এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলীসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে ৮টি মামলা হয়েছে। পিরোজপুরের বিভিন্ন উপজেলায় ১২৮টি ভুয়া স্কিম দেখিয়ে প্রায় ২৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা উত্তোলন এবং গ্রামীণ সড়ক পুনর্বাসন প্রকল্পের আওতায় ৬৯টি ভুয়া স্কিমে প্রায় ২০ কোটি ৬৩ লাখ টাকার বিল উত্তোলনের তথ্য পাওয়া গেছে। এই অর্থ লোপাটের সঙ্গে এলজিইডির একটি সিন্ডিকেট জড়িত, যার পেছনে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শেখ মোহাম্মদ নুরুল ইসলামের মদদ রয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সূত্র জানায়, কাজ না করে বিভিন্ন প্রকল্পের মোট ১ হাজার ৭৯ কোটি ৪ লাখ ৯৩ হাজার ৮৩৯ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে পিরোজপুর-২ আসনের সাবেক এমপি মহিউদ্দীন মহারাজ ও পিরোজপুর এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলীসহ ২৭ জনের বিরুদ্ধে পৃথক ৮টি মামলা হয়। গত বছরের ২৫ এপ্রিল মামলাগুলো হয়।

