রাজধানীজুড়ে তীব্র গ্যাস সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও প্রাইভেটকার চালকরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও মিলছে না পর্যাপ্ত জ্বালানি। মঙ্গলবার দুপুরে গাবতলীর এসপি ফিলিং স্টেশনের সামনে সিএনজি অটোরিকশাচালক আব্দুল খালেক নিজের কষ্টের কথা তুলে ধরে বলেন, রোদ-বৃষ্টি উপেক্ষা করে ৫ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে মাত্র ৮০ টাকার গ্যাস পেয়েছি। এ গ্যাসে কতক্ষণ গাড়ি চালানো যাবে তা অনিশ্চিত। কাজ না চললে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকতে হবে, তাই শেষ হওয়ার পর আবার লাইনে দাঁড়াতে হবে।
গাবতলী এলাকার খালেক ফিলিং স্টেশন, আল-মাহমুদ ফিলিং স্টেশন, সোহরাব সার্ভিস স্টেশন, মোহনা ফিলিং স্টেশন, শাহনাজ ফিলিং স্টেশন ও ডেইনসো ফিলিং স্টেশনে এদিন যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। একই চিত্র ছিল মিরপুর-১২, কালশী, মিরপুর-১০ ও সেনপাড়া এলাকার স্টেশনগুলোতেও।
প্রাইভেটকারচালক খলিল জানান, কাজীপাড়ায় তার বাসার পাশের স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় গাবতলী পর্যন্ত আসতে হয়েছে। অন্যদিকে, শাহবাগের সিএনজি স্টেশনে অপেক্ষমাণ চালক আতিকুর রহমান জানান, ভোরে লাইনে দাঁড়িয়েও কয়েক ঘণ্টা পর গ্যাস পাননি। তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন যে, পুরো দিন লাইনেই কেটে গেলে আজ আর কোনো আয় হবে না।
রাজধানীর রামপুরা, হাতিরঝিল, মগবাজার, নিউমার্কেট, যাত্রাবাড়ীর সিএনজি ফিলিং অ্যান্ড কনভার্সন কোম্পানি লিমিটেড, জয়কালি মন্দির রোডের এইচএস এন্টারপ্রাইজ এলপিজি স্টেশন, এবং ডেমরার রাসেল ও হাজী সিএনজি ফিলিং স্টেশনেও দীর্ঘ লাইন লক্ষ্য করা গেছে। এছাড়া সেগুনবাগিচা, বিজয় সরণি, ফকিরাপুল, শান্তিবাগ ও ফার্মগেট এলাকায় সংকট চরমে পৌঁছেছে।
শুধু পরিবহন চালকরাই নন, সাধারণ মানুষও এ সংকটের শিকার হচ্ছেন। সেগুনবাগিচার বাসিন্দা শফিক জানান, বাসাবাড়িতে গ্যাস না থাকায় রান্নাবান্না ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বাইরে থেকে খাবার কিনে আনতে হচ্ছে, যা সংসারের খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে। চালকরা সরকারকে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন, যাতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

