মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত মার্কিন সামরিক বাহিনীকে লক্ষ্য করে মধ্যরাতে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) স্থানীয় সময় বিকাল ৫টা ৪৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় বুধবার ভোর ৩টা ৪৫ মিনিটে) এই হামলা চালানো হয়। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সফলভাবে সব ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে, তবে হামলার সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে কোনো তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব যৌথভাবে ইরাকের পূর্বাঞ্চলে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিভিন্ন অস্ত্রের স্থাপনা ও রসদ সরবরাহের কেন্দ্রগুলোতে পালটা হামলা চালিয়েছে। সেন্টকমের ভাষ্যমতে, গত ৭২ ঘণ্টায় ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) নির্দেশে চালানো ৩০টিরও বেশি ড্রোন হামলার জবাব হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এ বিষয়ে তেহরানের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে মঙ্গলবার সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, তাদের পূর্বাঞ্চলীয় তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে আসা বেশ কিছু ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। সৌদি মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালিকি এই হামলার জন্য ইরাকে অবস্থানরত ইরান-ঘনিষ্ঠ মিলিশিয়া গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছেন।
নতুন এই হামলা-পালটা হামলার মধ্য দিয়ে দুই দেশের মধ্যে কয়েক দিনের যে সাময়িক বিরতি ছিল, তা শেষ হলো। এই বিরতির লক্ষ্য ছিল দুই পক্ষকে পুনরায় আলোচনার টেবিলে নিয়ে আসা। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। এর একদিন আগেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনা নিয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন।
পেন্টাগনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্পের নির্দেশে হামলার ঘটনার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৬২৪ মার্কিন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৪১৭ জন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় আহত হওয়ার তথ্য রয়েছে। হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ও চলাচলের অধিকার নিয়ে দুই দেশের মধ্যে মূল বিরোধ এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে, যদিও তেহরান এ ধরনের কোনো আলোচনার অস্তিত্বই অস্বীকার করে আসছে।

