হরমুজ প্রণালির ব্যবস্থাপনা নিয়ে ইরানকে ওমানের নতুন প্রস্তাব

হরমুজ প্রণালির আঞ্চলিক ব্যবস্থাপনা এবং সেখানে চলাচলকারী জাহাজগুলোর কাছ থেকে স্বেচ্ছায় টোল আদায়ের একটি নতুন প্রস্তাব ইরানকে দিয়েছে ওমান। মঙ্গলবার আরব উপসাগরীয় একটি সূত্র বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। ওমানের এই পরিকল্পনার প্রতি উপসাগরীয় দেশগুলো সমর্থন জানিয়েছে এবং গত শনিবার প্রস্তাবটি ইরানের কাছে পাঠানো হয়েছে।

প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরান একক কোনো নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারবে না এবং কোনো প্রকার বাধ্যতামূলক টোল আরোপ করার সুযোগও তাদের থাকবে না। মালাক্কা প্রণালি ব্যবস্থাপনার আদলে এই পরিকল্পনাটি সাজানো হয়েছে। মালাক্কা প্রণালি ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরকে সংযুক্ত করে, যা ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর যৌথভাবে পরিচালনা করে। ওই প্রণালিতে জাহাজগুলো থেকে স্বেচ্ছায় টোল আদায় করা হয় এবং সেই অর্থ নিরাপদ নৌ-চলাচল, পরিবেশ সুরক্ষা ও উদ্ধারকাজসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে ব্যয় করা হয়।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই পরিকল্পনা নিয়ে সোমবার ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ওমান ও সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আলোচনায় আরাগচি মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফেরানোর ওপর জোর দিয়েছেন। একইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের ফলে হরমুজ প্রণালিতে যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে, তা দূর করতে যৌথ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেছেন তিনি।

বিশ্বের মোট জ্বালানি বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর তেহরান কার্যত এই প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিয়েছিল। যদিও গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সমঝোতার পর প্রণালিটি আংশিক চালু হয়েছিল, কিন্তু চলতি মাসের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় হামলা শুরু করলে সেই সমঝোতা ভেস্তে যায়। টানা ১৩ দিন হামলার পর গত শুক্রবার থেকে পুনরায় ওই অঞ্চলে জাহাজ চলাচল সীমিত হয়ে পড়েছে।

এদিকে ওমানের এই পরিকল্পনাকে ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখলেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন কাতারের জর্জটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক পল মাসগ্রেভ। আল-জাজিরাকে তিনি বলেন, ইরানের সরকারে থাকা কট্টরপন্থীরা এই পরিকল্পনায় রাজি হবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই ব্যবস্থা ইরানের অর্থনীতির ওপর থাকা বড় ধরনের চাপ কমাতে সহায়ক হতে পারে এবং সাধারণ ইরানিরাও প্রণালিটি পুনরায় চালু হোক তা চায়, তবে কট্টরপন্থীদের অবস্থানই এখন বড় শঙ্কার কারণ।