প্যারিসের উপকণ্ঠে একটি রেস্টুরেন্টে প্রতিদিন খুব ভোরে কর্মজীবন শুরু করেন মো. সেলিম (ছদ্মনাম)। ফ্রান্সে তার বসবাস প্রায় এক দশকের কাছাকাছি। স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে সেখানেই তার সংসার। উন্নত জীবনের আশায় দেশটিতে পাড়ি জমানো সেলিম এখনো একটি স্থায়ী পরিচিতি বা রেসিডেন্স কার্ডের (titre de séjour) অপেক্ষায় প্রহর গুনছেন।
সেলিমের ব্যক্তিগত জীবনের এই চিত্রটি ফ্রান্সে বসবাসরত হাজারো বাংলাদেশি প্রবাসীর বাস্তবতার প্রতিফলন। পরিবারের সঙ্গে বসবাস করলেও কর্মব্যস্ততার কারণে সন্তানদের সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ তার খুবই কম। পরিবারের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের কথা ভেবেই তাকে দীর্ঘ সময় শ্রম দিতে হয়। সকালে তিনি যখন কাজে বের হন, তখন সন্তানরা স্কুলে থাকে; আবার গভীর রাতে যখন তিনি ক্লান্ত শরীর নিয়ে বাসায় ফেরেন, তখন সন্তানরা ঘুমের দেশে। অনেক দিন এমনও হয় যে, সন্তানদের সঙ্গে তার দেখা হওয়ার সুযোগটুকুও মেলে না।
সপ্তাহে কেবল রোববার দিনটি তিনি পরিবারের জন্য বরাদ্দ রাখেন। বাজার করা, পারিবারিক কাজ, বিভিন্ন প্রশাসনিক দাপ্তরিক অ্যাপয়েন্টমেন্ট এবং কিছুটা সময় পরিবারের সঙ্গে কাটিয়েই তার ছুটির দিন শেষ হয়ে যায়। সেলিম বলেন, "সন্তানদের ভবিষ্যতের জন্য এখানে আছি। শুধু একটি স্থির জীবনের অপেক্ষায় আছি। কিন্তু কাগজের অনিশ্চয়তা সব সময় একটা চাপ তৈরি করে।"
ফ্রান্সে বাংলাদেশি কমিউনিটির আকার গত কয়েক বছরে ক্রমাগত বাড়ছে। সংশ্লিষ্টদের ধারণা অনুযায়ী, দেশটিতে বর্তমানে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করছেন। যদিও সরকারি পর্যায়ে বাংলাদেশি নাগরিকদের মোট সংখ্যা নিয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য সবসময় প্রকাশিত হয় না। এই বিশাল কমিউনিটির অধিকাংশ মানুষই কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান তৈরির চেষ্টা করছেন। কেউ রেস্টুরেন্টে, কেউ নির্মাণ শিল্পে, কেউ পরিবহন ও ডেলিভারি খাতে, আবার কেউ ছোট ব্যবসার মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছেন।
তবে প্রবাসীদের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বৈধ থাকার অনুমতি বা রেসিডেন্স কার্ড। অনেকে দীর্ঘদিন ধরে আবেদনপত্র জমা দিয়ে প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছেন। এই অনিশ্চয়তা তাদের দৈনন্দিন জীবনেও গভীর প্রভাব ফেলছে। চাকরি, বাসা ভাড়া, ব্যাংকিং কার্যক্রম কিংবা পরিবারের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার মতো প্রতিটি ক্ষেত্রেই বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। একজন প্রবাসী আক্ষেপ করে বলেন, "আমরা কাজ করি, নিয়ম মেনে চলি, কিন্তু কাগজের বিষয়টি নিয়ে সব সময় একটা দুশ্চিন্তা থাকে।" প্রবাসীদের মতে, প্রশাসনিক প্রক্রিয়া আরও সহজ ও স্বচ্ছ হলে দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত মানুষের জীবনযাত্রা অনেক সহজ হতো।
প্যারিসের কাছাকাছি একটি রেস্টুরেন্টে প্রতিদিন ভোরে কাজ শুরু করেন মো. সেলিম (ছদ্মনাম)। ফ্রান্সে তার বসবাস প্রায় ১০ বছর। স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে এখানেই তার সংসার। উন্নত ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে ফ্রান্সে আসা সেলিম এখনো অপেক্ষা করছেন একটি স্থায়ী পরিচয়ের জন্য—বৈধ রেসিডেন্স কার্ডের (titre de séjour)।সেলিমের জীবন যেন হাজ

