ইয়েমেনের মোখা বন্দর দখলে হুতি, বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা

ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের কৌশলগত বন্দরনগরী মোখা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে বলে দেশটির সামরিক সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে। বৃহস্পতিবার এই ঘটনার পর থেকেই বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। ইয়েমেন সরকারের চারটি সামরিক সূত্র জানিয়েছে, লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দাব প্রণালির ওপর হুতিদের নিয়ন্ত্রণ এখন আগের চেয়ে আরও শক্তিশালী হয়েছে।

সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, এই প্রণালিকে ব্যবহার করে হুতিরা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হানিশ দ্বীপপুঞ্জেও হামলা পরিচালনা করছে। ইয়েমেন সরকারের দুটি পৃথক সূত্র নিশ্চিত করেছে যে, হুতি যোদ্ধারা হানিশ দ্বীপপুঞ্জে পৌঁছে গেছে। বিশ্লেষকদের মতে, বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে হুতিদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলে এটি বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় প্রভাব ফেলবে। কারণ, হরমুজ প্রণালির মতো এটিও জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম প্রধান পথ। এর ফলে ইরান কৌশলগতভাবে সুবিধা পেতে পারে এবং বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ কমে গিয়ে দাম দ্রুত বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

এই পরিস্থিতির প্রভাব এরই মধ্যে বিশ্ববাজারে পড়েছে। সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় বৃহস্পতিবার ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে বিশ্বের বৃহত্তম তেল রপ্তানিকারক সৌদি আরব লোহিত সাগরের এই নৌপথের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। ফলে মোখা বন্দরসহ এই অঞ্চল হুতিদের দখলে চলে আসায় সৌদি আরব বড় ধরনের ভূ-রাজনৈতিক সংকটে পড়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৮ মার্চ ইসরাইলের ওপর হামলার মাধ্যমে হুতিরা ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতে সরাসরি যুক্ত হয়। জুলাই মাসে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ ঘোষণার আগ পর্যন্ত তারা কিছুটা নীরব থাকলেও, পরবর্তীতে সেপ্টেম্বর থেকে সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলে তাদের হামলার মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়।