ছুটির দিনে ট্রাম্পের ৬০ পোস্ট, এআই ছবির মাধ্যমে ভিন্ন রূপ

প্রকাশ : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫: ০৬

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে যখন সাধারণ মার্কিন নাগরিকরা অবসরে সময় কাটাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সক্রিয় হয়ে ওঠেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মাত্র ১০ ঘণ্টা ৪১ মিনিটের ব্যবধানে তিনি একের পর এক ৬০টি পোস্ট করেন। এসব পোস্টের বেশিরভাগই ছিল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিতে তৈরি নানা ছবি, মানচিত্র ও নিজের প্রশংসামূলক বার্তা।

ট্রাম্পের প্রকাশিত কিছু ছবিতে তাকে কানাডার প্রধানমন্ত্রীকে হকি স্টিক দিয়ে ভয় দেখাতে, শত্রুদের ওপর বোমা হামলা চালাতে এবং অন্ধকার রাস্তায় প্রাণঘাতী রোবট নিয়ে টহল দিতে দেখা গেছে। এছাড়া কিছু মানচিত্রে যুক্তরাষ্ট্রকে অন্য দেশ দখল করতে দেখা গেছে, এমনকি একটি মানচিত্রে একটি অঙ্গরাজ্যের নাম পরিবর্তনেরও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ডেমোক্রেটিক পার্টিকে আক্রমণ করে বিভিন্ন পোস্টের পাশাপাশি নিজেকে ‘সর্বকালের শ্রেষ্ঠ প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে দাবি করেছেন তিনি।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এ ধরনের পোস্ট তার ব্যক্তিগত মানসিক জগতের একটি ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টকে তার আবেগ ও ব্যক্তিত্বের প্রতিফলন হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, এআই-নির্ভর ছবি ও ভিডিওর ব্যবহার তাকে এখন আরও দৃশ্যমান ও অতিরঞ্জিতভাবে নিজেকে উপস্থাপনের সুযোগ করে দিচ্ছে। এসব ছবিতে তাকে কখনো যোদ্ধা, কখনো বিজয়ী, আবার কখনো ইতিহাসের বিশাল কোনো চরিত্র হিসেবে দেখানো হচ্ছে। এমনকি নিজের বয়স কমিয়ে এবং শরীরকে আরও পেশিবহুল করে তোলার মতো কারসাজিও করেছেন তিনি।

গত সপ্তাহে চাঁদের ছবির সঙ্গে তিনি লিখেছিলেন, ‘চাঁদ আমাদের’। এছাড়া কয়েক সপ্তাহ আগে এক ভিনগ্রহের প্রাণীকে হাতকড়া পরিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো ছবিও প্রকাশ করেছিলেন তিনি। ট্রাম্পের এমন অস্বাভাবিক ও অতিরঞ্জিত পোস্ট বর্তমানে তার দ্বিতীয় মেয়াদের একটি পরিচিত বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে। সমালোচকদের অনেকে একে তার মানসিক অবস্থার সূচক হিসেবে দেখছেন এবং বয়সের সঙ্গে মানসিক অবক্ষয়ের দাবির সপক্ষে এগুলোকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরছেন।

ট্রাম্পের পোস্ট করা ছবিতে জনপ্রিয় রেসলিং তারকা হাল্ক হোগানের পেশিবহুল শরীরে তার মুখ বসিয়ে দেওয়ার মতো কনটেন্টও ছিল। পরের দিন আরেকটি এআই ছবিতে তাকে হোগানের সঙ্গে হাত মেলানোর প্রতিযোগিতায় জয়ী হতে দেখা যায়। ট্রাম্পের সাবেক ডেপুটি হোয়াইট হাউস প্রেস সেক্রেটারি সারাহ ম্যাথিউজ এসব পোস্টের তীব্র সমালোচনা করেছেন। তার মতে, ৮০ বছর বয়সী একজন প্রেসিডেন্ট এত বিপুল সময় ব্যয় করে এআই-নির্ভর কনটেন্ট দেখছেন ও পুনরায় পোস্ট করছেন, যা দেখে মনে হচ্ছে মানুষের চোখের সামনেই একজনের মানসিক অবক্ষয় ঘটছে। ম্যাথিউজের ভাষ্যমতে, ট্রাম্প এত বেশি পোস্ট করছেন যে মানুষ এখন এসবের অস্বাভাবিকতা নিয়ে আর আগের মতো বিস্মিত হয় না।