পশ্চিম তীরের বসতি পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডার

কূটনৈতিকভাবে ক্রমবর্ধমান বিচ্ছিন্নতার মুখে থাকা ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে শিল্পোন্নত তিন দেশ। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডা যৌথভাবে ঘোষণা করেছে যে, অধিকৃত পশ্চিম তীরের অবৈধ ইসরায়েলি বসতিতে উৎপাদিত পণ্য তারা আর আমদানি করবে না।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড পার্লামেন্টে এ ঘোষণা দিয়ে বলেন, অবিচার ও মানুষের দুর্দশার বিষয়ে কেবল মৌখিক প্রতিবাদে সীমাবদ্ধ থাকবে না ব্রিটেন। পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণ বন্ধে এখন সরাসরি পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি। তিনি আরও বলেন, দ্বিরাষ্ট্র সমাধানের পথ ধ্বংস হতে দেখা এবং মানুষের কষ্ট সহ্য করার নীতি থেকে সরে এসেছে লন্ডন। যদিও দীর্ঘকাল ধরে যুক্তরাজ্য দ্বিরাষ্ট্র নীতির সমর্থন করে আসছে, ইসরায়েল বরাবরই এর বিরোধিতা করেছে।

গত জুলাই মাসে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়া মিলিব্যান্ড পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি দখলদারিত্বকে সম্পূর্ণ অবৈধ বলে অভিহিত করেছেন। লন্ডনের বিশ্বাস, পশ্চিম তীরের কিছু এলাকায় ফিলিস্তিনিদের ওপর জাতিগত নিধন চালানো হচ্ছে। এদিকে ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় ইসরায়েলি নির্বাচনে হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলেছেন।

এই নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ইসরায়েলে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত তীব্র সমালোচনা করেছেন। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইসরায়েলের প্রভাবশালী মন্ত্রীরা যুক্তরাজ্যের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ তেল আবিবে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের আহ্বান জানিয়েছেন এবং জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের দায়িত্ব পালনকারী ব্রিটিশ কনস্যুলেট বন্ধ করার জন্য প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

তবে দুই দেশের বার্ষিক ৬০০ কোটি পাউন্ডের বাণিজ্যে এই নিষেধাজ্ঞার প্রভাব খুব সামান্য হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মূলত কৃষিপণ্য ও ওয়াইন এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ছে, যা ইসরায়েলের মোট বাণিজ্যের ক্ষুদ্র একটি অংশ। এছাড়া মূল ভূখণ্ডের পণ্যের সঙ্গে বসতির পণ্যের পার্থক্য নিরূপণ করা এখনো স্পষ্ট নয়। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে জেরুজালেমের অদূরে পশ্চিম তীরের ‘ই-ওয়ান’ বসতি প্রকল্প, যা স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের জন্য প্রস্তাবিত জমির ওপর গড়ে উঠছে। মিলিব্যান্ডের মতে, এই প্রকল্প দ্বিরাষ্ট্র সমাধানকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেবে। তা সত্ত্বেও, অর্থমন্ত্রী স্মোট্রিচ মঙ্গলবার পশ্চিম তীরে আরও এক হাজার নতুন বাড়ি তৈরির পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন, যদিও জাতিসংঘ ও বিশ্বের অধিকাংশ দেশ এই বসতি স্থাপনকে অবৈধ মনে করে।