আন্তর্জাতিক রোবোটিক্স প্রতিযোগিতায় একের পর এক সাফল্য অর্জনের পর এবার নতুনদের প্রশিক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন তরুণ রোবোটিক্স প্রতিভা আফিয়া হুমায়রা। বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফ পাবলিক কলেজের এই শিক্ষার্থী তার দল ‘সাইবার স্কোয়াড’-এর নেতৃত্ব দিয়ে টানা দুই বছর বিশ্ব রোবট অলিম্পিয়াডের আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন। পদক জয়ের পাশাপাশি এখন তিনি নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের রোবোটিক্সের জটিল দুনিয়ার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার মহৎ কাজে যুক্ত হয়েছেন।
সম্প্রতি ক্র্যাব ও উইংস ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে ‘ROBOGENESIS: Igniting the Future of Robotics’ শীর্ষক একটি দিনব্যাপী বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এই কর্মশালায় প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আফিয়া। সেখানে তিনি ক্র্যাব সদস্যদের সন্তানদের রোবোটিক্সের বিভিন্ন মৌলিক বিষয়, কোডিং, প্রযুক্তির ব্যবহার ও প্রকল্পভিত্তিক কাজের ওপর হাতে-কলমে বাস্তব ধারণা প্রদান করেন। একসময় যিনি নিজে বিশ্বমঞ্চে শেখার জন্য লড়েছেন, আজ তিনিই অন্য শিশুদের মেন্টর হিসেবে পথ দেখাচ্ছেন।
আফিয়ার এই রোবোটিক্স যাত্রার অন্যতম বড় মাইলফলক ছিল ২০২৪ সালের বিশ্ব রোবট অলিম্পিয়াড (ডব্লিউআরও)। তুরস্কের ইজমিরে অনুষ্ঠিত সেই আন্তর্জাতিক আসরে বিশ্বের ৮৭টি দেশের ৫৬০টি দল অংশ নিয়েছিল। সেখানে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী দলগুলোর মধ্যে আফিয়া হুমায়রার নেতৃত্বাধীন ‘সাইবার স্কোয়াড’ ফিউচার ইনোভেটরস বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ব্রোঞ্জ পদক জয় করে। একই আসরে বাংলাদেশের আরেকটি দল সাদিয়া আনজুম পুষ্পর নেতৃত্বে ‘চেইঞ্জ মেকার্স ২০২৪’ ব্রোঞ্জ পদক লাভ করে। বিশ্বমঞ্চে পদকজয়ী বাংলাদেশের দুটি দলের নেতৃত্বেই নারী শিক্ষার্থী থাকায় বিষয়টি দেশের গণমাধ্যমেও বেশ প্রশংসিত হয়।
তুরস্কের সাফল্যের পর ২০২৫ সালেও আফিয়া ও তার দল সাফল্যের ধারা বজায় রাখে। ২০২৫ সালের জাতীয় পর্বে প্রায় ২০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ফিউচার ইনোভেটরসের জুনিয়র গ্রুপে স্বর্ণপদক জয় করে ‘সাইবার স্কোয়াড’। এই গৌরবময় অর্জনের মাধ্যমে তারা আন্তর্জাতিক ফাইনালে বাংলাদেশের হয়ে লড়ার টিকিট পায়।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২৬ থেকে ২৮ নভেম্বর সিঙ্গাপুরের মারিনা বে স্যান্ডস এক্সপোতে (Marina Bay Sands Expo) অনুষ্ঠিত হয় বিশ্ব রোবট অলিম্পিয়াডের আন্তর্জাতিক ফাইনাল। এই আসরে বাংলাদেশ থেকে মোট নয়টি দল অংশ নেয়। সেখানে ফিউচার ইনোভেটরস জুনিয়র গ্রুপে আফিয়ার নেতৃত্বাধীন ‘সাইবার স্কোয়াড’ বিশ্বমঞ্চে নবম স্থান অর্জন করে রৌপ্য পদক ছিনিয়ে আনে। ব্রোঞ্জ থেকে রৌপ্য পদকে উন্নীত হওয়ার এই যাত্রা কেবল পদকের রঙ বদলের গল্প নয়, বরং এটি আফিয়ার ধারাবাহিক অনুশীলন ও সুযোগ্য নেতৃত্বের এক অনন্য দৃষ্টান্ত। জটিল কোডিং ও যন্ত্রাংশের এই জগতে মেয়েদের নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা প্রমাণ করে চলেছেন আফিয়া হুমায়রা।

