তুরস্কের কোনিয়ায় বাড়ছে সিঙ্কহোল আতঙ্ক, ঝুঁকিতে শস্যভান্ডার

কোনো আগাম সংকেত ছাড়াই হঠাৎ বিকট শব্দে মাটি ধসে বিশাল গর্ত তৈরির ঘটনা তুরস্কের মধ্য আনাতোলিয়ার কোনিয়া অঞ্চলে এখন নিয়মিত চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই কৃষিপ্রধান অঞ্চলটি তুরস্কের শস্যভান্ডার হিসেবে পরিচিত হলেও বর্তমানে সিঙ্কহোল বা বিশাল গর্তের আতঙ্কে রয়েছে। এখন পর্যন্ত সেখানে প্রায় ৭০০টি সিঙ্কহোলের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে, যার গভীরতা কোথাও কোথাও ৪০ মিটার এবং প্রস্থ ৫০ মিটার পর্যন্ত। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা প্রকাশ করে জানিয়েছেন, প্রকৃত সিঙ্কহোলের সংখ্যা ভবিষ্যতে ২ হাজার ৫০০ ছাড়িয়ে যেতে পারে।

স্থানীয় কৃষক ফাতিহ শিক সম্প্রতি এমন এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছেন। বাড়ির পাশে হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে তিনি বাইরে তাকিয়ে দেখেন মাটি ধসে পানি ও কাদা আকাশের দিকে ছিটকে উঠছে। চোখের পলকেই তাঁর জমিতে ৫০ মিটার চওড়া ও ৪০ মিটার গভীর এক বিশাল গর্ত তৈরি হয়ে যায়।

এই অঞ্চলের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাওয়াই এমন পরিস্থিতির প্রধান কারণ। একসময় কোনিয়ায় মাত্র ৩০ মিটার গভীরেই পানি পাওয়া যেত, কিন্তু এখন পানির সন্ধানে ৯০ মিটার পর্যন্ত গভীর কূপ খনন করতে হচ্ছে। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের অভাব এবং কৃষিকাজে ভূগর্ভস্থ পানির অত্যধিক ব্যবহার এই সংকটকে আরও গভীর করে তুলেছে।

এর সঙ্গে যোগ হয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব। তুরস্কের দীর্ঘস্থায়ী খরা ও ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা মধ্য আনাতোলিয়ার প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করছে। গত ৬০ বছরে এই অঞ্চলের ২৪০টি হ্রদের মধ্যে ১৮৬টিই শুকিয়ে গেছে। কেবল তুরস্ক নয়, স্পেনসহ ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য দেশেও দীর্ঘ খরা ও ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত চাপের কারণে মাটি ধসে পড়ার ঝুঁকি বাড়ছে। তুরস্কের এই ঘটনা মূলত পানির ওপর অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগের ভয়াবহ পরিণতির একটি সতর্কবার্তা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।