স্মার্টফোনের চার্জ দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়া, কম ব্যাকআপ এবং চার্জ হতে দীর্ঘ সময় লাগার মতো চিরচেনা সমস্যাগুলোর সমাধানে এবার নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে সিলিকন-কার্বন ব্যাটারি প্রযুক্তি। দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি দূর করতে চীনা স্মার্টফোন নির্মাতাদের পাশাপাশি এখন স্যামসাংয়ের মতো বৈশ্বিক জায়ান্টও এই প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছে। ফলে বিশ্বজুড়ে স্মার্টফোনের ব্যাটারির বাজারে এক বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
সাধারণত প্রচলিত লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারির অ্যানোডে গ্রাফাইট ব্যবহার করা হয়। তবে নতুন এই প্রযুক্তিতে গ্রাফাইটের পরিবর্তে সিলিকন যুক্ত করার ফলে একই জায়গায় অনেক বেশি পরিমাণে লিথিয়াম আয়ন ধরে রাখা সম্ভব হয়। তাত্ত্বিক ও গবেষণামূলক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সিলিকনের শক্তি ধারণক্ষমতা গ্রাফাইটের চেয়ে প্রায় ১০ গুণ পর্যন্ত বেশি হতে পারে। তবে পুরো অ্যানোডটি কেবল সিলিকন দিয়ে তৈরি করা সম্ভব হয় না। কারণ চার্জ নেওয়ার সময় সিলিকনের আয়তন অতিরিক্ত মাত্রায় প্রসারিত হয়, যা ব্যাটারির কাঠামোগত ক্ষতি করে এবং দীর্ঘমেয়াদে এর কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়।
এই সমস্যার সমাধানে বর্তমানে গ্রাফাইটের সঙ্গে সিলিকন বা সিলিকন-কার্বন কম্পোজিট মিশিয়ে একটি ভারসাম্যপূর্ণ অবস্থা তৈরি করা হচ্ছে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণায় সিলিকনের অতিরিক্ত প্রসারণ এবং ব্যাটারির ‘সাইকেল লাইফ’ বা স্থায়িত্বকে প্রধান প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই চ্যালেঞ্জগুলো সত্ত্বেও স্যামসাং তাদের আগামী প্রজন্মের ফোল্ডেবল স্মার্টফোনে সিলিকন-কার্বন অ্যানোড ব্যবহার করে ব্যাটারির শক্তির ঘনত্ব বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। অন্যদিকে ওয়ানপ্লাস, অনার, অপো এবং শাওমির মতো জনপ্রিয় ব্র্যান্ডগুলো পাতলা গড়নের ফোনে বড় ধারণক্ষমতার ব্যাটারি যুক্ত করতে এই প্রযুক্তি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করছে।
সিলিকন-কার্বন প্রযুক্তির মূল সুবিধা হলো, এটি একই আকারের ব্যাটারিতে অনেক বেশি চার্জ ধরে রাখতে পারে, দ্রুত চার্জিং সুবিধা দেয় এবং ফোনকে স্লিম বা পাতলা রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে ভবিষ্যতে একবার চার্জ দিয়ে টানা দুই দিন পর্যন্ত স্মার্টফোন ব্যবহার করার পথ সুগম হচ্ছে। তবে এই প্রযুক্তির কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে, যার মধ্যে উৎপাদন জটিলতা, বেশি উৎপাদন খরচ এবং সিলিকনের প্রসারণজনিত ক্ষয় অন্যতম। যদিও এটি ব্যাটারি সমস্যার শতভাগ স্থায়ী সমাধান নয়, তবুও ব্যবহারকারীদের চার্জিং অভিজ্ঞতা ও ব্যাটারির ধারণক্ষমতা বৃদ্ধিতে এটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় এক প্রযুক্তি হিসেবে দ্রুত জায়গা করে নিচ্ছে।

