বায়োটেকনোলজি, ইলেকট্রনিক্স, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং রোবটিকস খাতে বাংলাদেশের সক্ষমতা জোরদার করার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়েছে ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট ২০২৬’। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এই বিশেষ সম্মেলনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন, আইসিটি বিভাগের উপদেষ্টা রেহান আসাদ, বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসআইএ) সভাপতি এম এ জব্বার এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সচিব এম আনোয়ার হোসেন।
সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যুক্তরাষ্ট্রের পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুহাম্মদ মুস্তাফা হুসাইন। তিনি বাংলাদেশের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি সেমিকন্ডাক্টর ও ডিপ-টেক কৌশল প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। অধ্যাপক হুসাইন আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ২০৩৫ সালের মধ্যে প্রযুক্তি খাত থেকে বার্ষিক ১৫০ বিলিয়ন ডলার আয় করা বাংলাদেশের পক্ষে অসম্ভব নয়। দেশের তরুণদের সৃজনশীলতা, উদ্ভাবনী ক্ষমতা এবং গভীর প্রযুক্তিগত দক্ষতাকে এই লক্ষ্য অর্জনের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।
এবারের আয়োজনে দেশের ৩৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯৩ জন ‘বিইএআর প্যাটরন’ এবং ‘ওয়ান বাংলাদেশ’-এর ৩৬ জন নতুন সদস্য যুক্ত হয়েছেন। তাদের ‘আগামীর বাংলাদেশের মুখ’ আখ্যায়িত করে অধ্যাপক মুস্তাফা হুসাইন বলেন, সঠিক দিকনির্দেশনা ও উদ্ভাবনী চিন্তার মাধ্যমে এই তরুণরাই দেশের প্রযুক্তি খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসবে। সিলিকন ভ্যালির উদাহরণ টেনে তিনি উল্লেখ করেন, অল্পসংখ্যক দক্ষ মানুষের উদ্ভাবনী চিন্তাই বিশ্বজুড়ে বড় বড় প্রযুক্তিগত বিপ্লবের জন্ম দিয়েছে। বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যেও সেই একই সম্ভাবনা রয়েছে।
বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ‘সিলিকন রিভার বাংলাদেশ’-এর যৌথ উদ্যোগে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এতে দেশ-বিদেশের নীতিনির্ধারক, গবেষক, উদ্যোক্তা, বিনিয়োগকারী, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি এবং প্রবাসী বাংলাদেশি প্রযুক্তিবিদরা অংশ নিচ্ছেন। পুরো আয়োজনটি ‘বিইএআর ২০২৬ বাংলাদেশ’ এবং ‘বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন’-এর অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে।

