ভেনিস উৎসবে নারী নির্মাতাদের নিয়ে মুখ খুললেন মে এল-তুখি

ভেনিস চলচ্চিত্র উৎসবের মূল প্রতিযোগিতা বিভাগে অংশ নেওয়া ডেনিশ-ইজিপশিয়ান নির্মাতা মে এল-তুখি চলচ্চিত্র অঙ্গনে নারী নির্মাতাদের প্রতি বৈষম্য নিয়ে সরব হয়েছেন। এবারের আসরে গোল্ডেন লায়ন জয়ের লড়াইয়ে থাকা মাত্র দুইজন নারী পরিচালকের একজন তিনি। তার নতুন সিনেমা ‘ওম্যান আননোন’ ভেনিসের মূল প্রতিযোগিতায় জায়গা করে নিয়েছে।

রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এল-তুখি মন্তব্য করেন, পুরুষ পরিচালকদের ‘জিনিয়াস’ হিসেবে বন্দনা করার যে সংস্কৃতি রয়েছে, তা নারী নির্মাতাদের পিছিয়ে দিচ্ছে। তিনি বলেন, “আমি কখনো এমন কোনো লেখা পড়িনি, যেখানে একজন নারী পরিচালককে জিনিয়াস বলা হয়েছে।” যদিও নিজেকে তিনি জিনিয়াস মনে করেন না, তবে এই আলোচনার ভাষা পরিবর্তনের দায়িত্ব সবার বলে তিনি মনে করেন।

চলচ্চিত্র স্কুলে পড়াশোনা শেষ করার পর প্রথম সিনেমা নির্মাণের সুযোগ পেতে তাকে ছয় থেকে সাত বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে, যেখানে তার পুরুষ সহপাঠীরা অনেক দ্রুত কাজ শুরু করেছিলেন। ‘মি টু’ আন্দোলনের পর সচেতনতা বাড়লেও পরিস্থিতি আবার আগের জায়গায় ফিরছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। এল-তুখি রসিকতা করে বলেন, “এই মুহূর্তে সম্ভবত আমিই ভেনিস উৎসবের সবচেয়ে পরিচিত অচেনা নারী।”

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ডেনমার্কের প্রেক্ষাপটে নির্মিত হয়েছে ‘ওম্যান আননোন’। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র মেরি নামের এক তরুণী গৃহপরিচারিকা, যে তার বিধবা মালিককে বিয়ে করতে যাচ্ছে। যুদ্ধের সময় এক জার্মান সৈনিকের সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা ফাঁস হওয়ার ভয় তাকে তাড়া করে। এল-তুখি জানান, যুদ্ধের সময় নারীর শরীরকে প্রায়ই জাতীয় ভূখণ্ড হিসেবে দেখা হয়। তিনি বলেন, “আমার সিনেমাটি নারীদের অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার গল্প। একদিকে তাদের বস্তু হিসেবে দেখা হয়, অন্যদিকে তারা অদৃশ্য ও কণ্ঠহীন হয়ে থাকে।”

উল্লেখ্য, এবারের ভেনিস উৎসবে গোল্ডেন লায়নের জন্য ভের্নার হারৎসগ, পল শ্রেডার, নান্নি মোরেত্তি, মার্টিন ম্যাকডোনা ও ড্যানি বয়েলের মতো খ্যাতিমান পুরুষ নির্মাতারা প্রতিযোগিতা করছেন। উৎসবের মূল প্রতিযোগিতার তালিকায় জুলাই মাসে কেবল এল-তুখির ছবিই ছিল, পরে গাজা নিয়ে নির্মিত তথ্যচিত্র ‘নাজা’ যুক্ত হয়, যা যৌথভাবে পরিচালনা করেছেন ইউভাল আব্রাহাম ও র‌্যাচেল সোর। এর আগে ২০১৯ সালে এল-তুখির ‘কুইন অব হার্টস’ নর্ডিক কাউন্সিল চলচ্চিত্র পুরস্কার জিতেছিল। তিনি ডগমা ২৫ আন্দোলনেরও অন্যতম উদ্যোক্তা, যা লাস ভন তারির ও টমাস ভিন্টারবার্গের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা ডগমা ৯৫ আন্দোলনের আধুনিক পুনর্নির্মাণ।

চলচ্চিত্র স্কুল থেকে বের হওয়ার পর প্রথম ছবি নির্মাণের সুযোগ পেতে তার ছয় থেকে সাত বছর সময় লেগেছিল। অথচ তার পুরুষ সহপাঠীরা অনেক দ্রুত কাজ শুরু করতে পেরেছিলেন। কান ও বার্লিন চলচ্চিত্র উৎসবে এ বছর নারী পরিচালকদের উপস্থিতি তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল। কান উৎসবের মূল প্রতিযোগিতায় ২২টি ছবির মধ্যে পাঁচটি এবং বার্লিনে ১৭টির মধ্যে সা