রাষ্ট্রপতির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে দলের হাইকমান্ড: রিজভী

পরবর্তী রাষ্ট্রপতি কে হবেন, তা নিয়ে দলের উচ্চপর্যায় থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শনিবার সকালে রাজধানীর শেরে বাংলা নগর জিয়া উদ্যানে রাষ্ট্রায়ত্ত ১২ প্রতিষ্ঠানের নবনিযুক্ত চেয়ারম্যানদের নিয়ে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

রিজভী আরও জানান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে পদত্যাগ করা রাষ্ট্রপতির বিচারের যে দাবি তোলা হয়েছে, সেটিও একটি দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন নিয়োগ পাওয়া চেয়ারম্যানরা সততা ও নিষ্ঠার সাথে তাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন। এ সময় তিনি দাবি করেন, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের ত্যাগী নেতাদের যথাযথ মূল্যায়ন করছেন।

উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। সংবিধান অনুযায়ী তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় দুই বছর আগেই স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে তিনি দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ান।

সংবিধানের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। সেই ধারাবাহিকতায় এখন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। সংবিধান অনুযায়ী, পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিনের প্রায় তিন বছরের দায়িত্বকাল দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম ঘটনাবহুল সময় হিসেবে চিহ্নিত। তার মেয়াদকালেই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এরপর অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বকাল শেষে অনুষ্ঠিত হয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই সময়ের মধ্যে তিনি তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান, যা দেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা।