সন্তানকে সম্পত্তি হস্তান্তরের পরও বাবা-মা যেন জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তি ভোগদখল করতে পারেন, এমন বিধান যুক্ত করে সম্পত্তি হস্তান্তর আইনে সংশোধন আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক ও ব্লাস্টের সঙ্গে আইনগত সহায়তা নিয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান এ তথ্য জানিয়েছেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে দেওয়ানি মামলার একটি বড় অংশই সম্পত্তি বণ্টন ও হিসাব-নিকাশসংক্রান্ত। বর্তমান আইনে বাবা-মা সন্তানদের নামে সম্পত্তি হেবা করে দিলে সঙ্গে সঙ্গে মালিকানা হস্তান্তরিত হয়ে যায়। এতে তারা সন্তানদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন এবং অনেক সময় সন্তানরা দেখাশোনা না করলে তারা অসহায় হয়ে পড়েন। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের গিফট বা উপহার সংক্রান্ত ধারাটি আরও কার্যকর করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, ১৯৬৩ সালের পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের ভিত্তিতে এই বিধানটি সম্প্রসারণ করা হবে। এর আওতায় গিফটের ক্ষেত্রে ইউসুফ্রাক্ট রাইট বা জীবনস্বত্ব রাখার সুযোগ যুক্ত করা হবে। এছাড়া বাবার চিকিৎসার প্রয়োজনে সম্পত্তি বিক্রির প্রয়োজন হলে এবং সন্তান সম্মতি না দিলে জেলা জজকে বিষয়টি সিদ্ধান্ত দেওয়ার ক্ষমতা প্রদানের বিধানও যুক্ত করা হতে পারে। আবেদন করা হলে জেলা জজ বিষয়টি বিবেচনা করতে পারবেন। আইনমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, এ ধরনের বিধান চালু হলে সম্পত্তি-সংক্রান্ত দেওয়ানি মামলা অনেকাংশে কমে আসবে এবং অনেক পারিবারিক সমস্যার সমাধান হবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সচিবালয়ে আইনগত সহায়তা নিয়ে বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাক ও ব্লাস্টের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

