আসুন নতুন করে রাষ্ট্রকে পুনর্গঠন করি: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

৫ই আগস্ট তরুণ সমাজ দেশকে পরিবর্তনের যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, সেই ধারাবাহিকতায় রাষ্ট্রকে পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত তিন মাসব্যাপী সারা দেশব্যাপী ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই ডাক দেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মী, বিএনসিসি, স্কাউটস, গার্লস গাইড, রেড ক্রিসেন্ট এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা সরাসরি অংশ নেন। এছাড়া অনলাইনে সারা দেশের জেলা প্রশাসন ও বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরাও যুক্ত ছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, পরিবর্তনের সূচনা তরুণ সমাজ করেছে এবং এখন আমাদের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত পরিচ্ছন্ন পরিবার, পরিচ্ছন্ন সমাজ এবং সবার আগে বাংলাদেশ। তিনি রাস্তাঘাটে যত্রতত্র ময়লা ফেলার প্রবণতা রোধে নাগরিকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, তরুণ সমাজ যে পরিবর্তন করতে পারে, সেটি ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট তরুণ সমাজ সারা বিশ্বকে দেখিয়ে দিয়েছে। কাজেই পরিবর্তনের সূচনা সেখান থেকেই তরুণ সমাজ করেছে। তিনি পরামর্শ দেন, দেশের প্রতিটি নাগরিক যদি সপ্তাহে অন্তত এক ঘণ্টা নিজের বাসা, স্কুল, কলেজ বা কর্মস্থল পরিষ্কারের কাজে ব্যয় করেন, তবে খুব দ্রুতই ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

তারেক রহমান দেশের তরুণ শক্তির ওপর আস্থা রেখে বলেন, বাংলাদেশের স্কাউটসের প্রায় ২৩ লাখ সদস্য, বিএনসিসি’র ২২ হাজার সদস্য এবং প্রায় আড়াই কোটি শিক্ষার্থী মিলে যদি দেশকে পুনর্গঠন করতে চায়, তবে কেউ তাদের ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না। তিনি উল্লেখ করেন, আগামী তিন মাসের এই ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রমে আমরা ১০০% না হলেও অন্তত ৮০% সফলতার আশা করছি। ডেঙ্গুর উৎস এডিস মশার বংশবিস্তার রোধে ভাঙাচোরা জিনিসপত্র ও প্লাস্টিকের পাত্রে জমে থাকা পানি পরিষ্কার করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী আবদুল মঈন খান, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বক্তব্য রাখেন।

এদিকে, বিজয় সরণির নভোথিয়েটারে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাষ্ট্র গঠনের ওপর জোর দেন। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে এই মেলায় প্রযুক্তি, স্বাস্থ্য, কৃষি ও পরিবেশসহ বিভিন্ন খাতের এক হাজারের বেশি উদ্ভাবন প্রদর্শিত হচ্ছে। মেলায় সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষক, স্টার্টআপ এবং এসএমই উদ্যোক্তারা অংশ নিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জনে উদ্ভাবক ও বিনিয়োগকারীদের সহযোগিতায় একটি আধুনিক রাষ্ট্র গড়ে তুলতে কাজ করছে। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় দিনে স্বাস্থ্য খাতের উদ্ভাবন নিয়ে একটি বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।