বাংলাদেশসহ ৫০ দেশের জন্য স্থায়ী হলো মার্কিন ভিসা বন্ড

বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৫০টি দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা বন্ড কর্মসূচি স্থায়ী করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রকাশিত ফেডারেল নোটিশ অনুযায়ী, নতুন এই নীতিমালা আগামী ৩ আগস্ট ২০২৬ থেকে কার্যকর হবে।

নতুন এই বিধিমালার আওতায় ব্যবসা ও পর্যটন ভিসা (বি-১ ও বি-২) আবেদনকারীদের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ২০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত বন্ড নির্ধারণ করার ক্ষমতা পাবেন মার্কিন কনস্যুলার কর্মকর্তারা। এই কর্মসূচির তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ, নেপাল ও ভুটানসহ বিশ্বের ৫০টি দেশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া আফ্রিকার ৩০টি দেশও এই তালিকার মধ্যে রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার কর্মকর্তা নির্ধারণ করবেন যে কোনো নির্দিষ্ট আবেদনকারীর কাছ থেকে বন্ড নেওয়া হবে কি না এবং বন্ডের পরিমাণ কত হবে। অর্থাৎ, সব আবেদনকারীর জন্য এটি বাধ্যতামূলক নয়। এর আগে ২০২৫ সালে পরীক্ষামূলকভাবে ৫ হাজার, ১০ হাজার ও ১৫ হাজার ডলারের বন্ড ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। তবে নতুন স্থায়ী বিধিতে সর্বনিম্ন ৫ হাজার ডলারের সীমা বাদ দিয়ে সর্বোচ্চ বন্ডের পরিমাণ ২০ হাজার ডলারে উন্নীত করা হয়েছে।

মার্কিন প্রশাসনের মতে, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানের প্রবণতা বা ওভারস্টে কমানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে অভিবাসন ও মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো এই নীতির সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, বড় অঙ্কের বন্ড বৈধ পর্যটক ও ব্যবসায়ীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি করতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে অনাগ্রহ বাড়াতে পারে। এছাড়া বিশেষজ্ঞদের অনেকে মনে করছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অবৈধ অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে নেওয়া কঠোর পদক্ষেপগুলোর ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই এই ভিসা বন্ড নীতির সম্প্রসারণ করা হয়েছে।