নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিতে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা উদ্বোধন

নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে 'জাতীয় কর্মপরিকল্পনা (ন্যাপ) ২০২৬-২০৩০' উদ্বোধন করেছে। এই কর্মপরিকল্পনাটি 'নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন বিষয়ক বৈশ্বিক চুক্তি' বা গ্লোবাল কমপ্যাক্ট ফর সেফ, অর্ডারলি অ্যান্ড রেগুলার মাইগ্রেশন (জিসিএম)-এর লক্ষ্যসমূহ বাস্তবায়নের জন্য প্রণয়ন করা হয়েছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকারের সহযোগী হিসেবে কাজ করছে আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।

ঢাকা আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে বাংলাদেশ মাইগ্রেশন কমপ্যাক্ট টাস্কফোর্সের (বিএমসিটি) সহ-সভাপতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে আইওএম-এর বাস্তবায়িত 'প্রত্যাশা-২' প্রকল্পের আওতায় এই কর্মপরিকল্পনাটি তৈরির জন্য কারিগরি সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। উল্লেখ্য, জাতীয় এই কর্মপরিকল্পনাটি চলতি বছরের ২১ মে মন্ত্রিসভায় অনুমোদন লাভ করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী এবং সভাপতিত্ব করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। এছাড়াও বিভিন্ন পর্যায়ের সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, আইওএম-এর উপ-মহাপরিচালক উগোচি ড্যানিয়েলস, বাংলাদেশে জাতিসংঘের অন্তর্বর্তীকালীন আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোর-স্মেরেঝনিয়াক এবং আইওএম বাংলাদেশের চিফ অব মিশন ড. লরা টম বন্দসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক অভিবাসন পর্যালোচনা ফোরাম (আইএমআরএফ) ২০২৬-এর ফলাফল তুলে ধরা হয়, যেখানে বৈশ্বিক অভিবাসন কার্যক্রমে বাংলাদেশের নেতৃত্ব ও অবদানের চিত্র ফুটে ওঠে। এছাড়া জিসিএম বাস্তবায়নে বাংলাদেশের নবায়নকৃত অঙ্গীকারের পাশাপাশি কর্মপরিকল্পনার মোড়ক উন্মোচন এবং অভিবাসন সংক্রান্ত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। বক্তারা সরকারি প্রতিষ্ঠান, আন্তর্জাতিক অংশীদার, বেসরকারি খাত এবং নাগরিক সমাজের মধ্যে টেকসই সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা পুনর্ব্যক্ত করেন যে, সরকার অভিবাসীদের অধিকার ও মর্যাদা সুরক্ষায় এবং জাতীয় উন্নয়নে অভিবাসনের ইতিবাচক অবদান বৃদ্ধিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।