আর্থিক সহায়তার নামে কুপ্রস্তাব, মুখ খুললেন আকাঙ্ক্ষা চৌধুরী

মডেল ও রিয়েলিটি তারকা আকাঙ্ক্ষা চৌধুরী তার জীবনের একটি অত্যন্ত তিক্ত ও ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জাতীয় টেলিভিশনের সামনে তুলে ধরেছেন। আকাঙ্ক্ষা জানিয়েছেন, একটি বিউটি পেজেন্টে অংশ নেওয়ার জন্য তার এক থেকে দুই লাখ রুপির প্রয়োজন ছিল। পরিবারের পক্ষে পোশাক ও প্রশিক্ষণের মতো ব্যয়বহুল খরচ বহন করা সম্ভব ছিল না বলে তিনি দীর্ঘদিনের পরিচিত এক প্রভাবশালী ব্যক্তির কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছিলেন। ওই ব্যক্তি অতীতেও অনেক প্রতিযোগীকে আর্থিকভাবে সাহায্য করেছিলেন বলে তিনি তাকেই বেছে নিয়েছিলেন।

আকাঙ্ক্ষা ওই প্রভাবশালী ব্যক্তিকে প্রস্তাব দিয়েছিলেন যে, তিনি তার পড়াশোনা এবং যোগাযোগের দক্ষতার মাধ্যমে কাজ করে বা চাকরি করে সেই ঋণ পরিশোধ করবেন। আকাঙ্ক্ষার দাবি, ওই ব্যক্তি তাকে তার বাসায় ডাকেন। আকাঙ্ক্ষা এর আগেও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পরামর্শদাতাদের সঙ্গে ওই ব্যক্তির বাসায় গিয়েছিলেন, কিন্তু সেদিন পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। তিনি জানান, সেখানে পৌঁছানোর পর ওই ব্যক্তি তাকে জড়িয়ে ধরেন এবং এক পর্যায়ে জোর করে স্পর্শ করার চেষ্টা করেন। আকাঙ্ক্ষা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে সরিয়ে দেন এবং প্রতিবাদ করেন।

ওই ব্যক্তি তখন আকাঙ্ক্ষাকে বলেন, এক বছর আগেই যদি তিনি তার প্রস্তাবে রাজি হতেন, তবে এতদিনে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে যেতেন। এখন যেহেতু কাজ পাচ্ছেন না, তাই অর্থের বিনিময়ে তাকে যৌন সম্পর্কে জড়াতে হবে। এমনকি ওই ব্যক্তি মাসে পাঁচবার যৌন সম্পর্কের শর্ত জুড়ে দিয়েছিলেন। আকাঙ্ক্ষা সঙ্গে সঙ্গে সেই কুপ্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন এবং বলেন যে, আগে জানলে তিনি কখনোই সেখানে যেতেন না। জবাবে ওই ব্যক্তি তাকে হুমকি দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতে এই সিদ্ধান্তের জন্য তাকে অনুতপ্ত হতে হবে এবং এই ইন্ডাস্ট্রিতে এমন সমঝোতা ছাড়া এগোনো সম্ভব নয়।

নিজের সিদ্ধান্তে অটল থেকে আকাঙ্ক্ষা সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন। তিনি জানান, নিজের কঠোর পরিশ্রমের জোরেই ঘটনার ছয় মাস পর তিনি একটি বড় শোতে সুযোগ পান এবং এক বছরের মধ্যে দেশের অন্যতম বড় মঞ্চে নিজের অবস্থান তৈরি করেন। আকাঙ্ক্ষার এই সাহসী স্বীকারোক্তি শুনে শোয়ের সঞ্চালক ফারাহ খান এবং রিতেশ দেশমুখ তার ভূয়সী প্রশংসা করেন। ফারাহ খান আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন, তিনি আশা করেন ওই ব্যক্তি অনুষ্ঠানটি দেখছেন এবং দেখছেন যে আকাঙ্ক্ষা আজ কোথায় পৌঁছেছেন। তিনি আকাঙ্ক্ষার চিন্তাধারাকে সঠিক আখ্যা দিয়ে গর্ব প্রকাশ করেন।