প্রতিমন্ত্রীর নাম-স্বাক্ষর নকল করে তদবির, সিল-স্ট্যাম্পসহ যুবক গ্রেপ্তার

বাগেরহাটের মোংলায় পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের নাম, স্বাক্ষর ও পদবি ব্যবহার করে অবৈধ তদবির বাণিজ্যের অভিযোগে মো. কামরুজ্জামান টুকু (৩৫) নামের এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত কামরুজ্জামান মোংলা উপজেলার চিলা ইউনিয়নের হলদিবুনিয়া গ্রামের মৃত নুরুল ইসলাম শেখের ছেলে।

পুলিশ জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর রোববার দিবাগত রাত আনুমানিক ১২টার দিকে মোংলা থানার একটি বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে তাকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। অভিযানের সময় তার কাছ থেকে প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলামের নাম ও পদবি সংবলিত একটি সিল এবং স্ট্যাম্পেট জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে অবৈধভাবে প্রভাব খাটানো ও তদবির করার অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি তদন্ত শুরু হয়। উদ্ধার হওয়া সিল-স্ট্যাম্পসহ অন্যান্য আলামত যাচাই-বাছাই করে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মোংলা থানা পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় কামরুজ্জামান টুকুর নাম উল্লেখ করে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত আরও দুইজনের নামে মামলা করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মোংলা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. রেফাতুল ইসলাম জানান, প্রতিমন্ত্রীর সিল ও স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগে কামরুজ্জামান টুকুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, তদন্তে অন্য কারও সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা জানান, কোনো ব্যক্তি বা চক্র রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নাম ব্যবহার করে প্রতারণা বা অবৈধ সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলে তা তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম বা তার প্রতিনিধির বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, গ্রেপ্তারকৃত কামরুজ্জামান টুকু বা তার পরিবারের বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।