মৃদু তাপপ্রবাহের কবলে পড়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট চরম আকার ধারণ করেছে। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবন প্রায় অচল হয়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে, যার নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে কৃষি, ব্যবসা ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে। বিশেষ করে আমন মৌসুমে সেচনির্ভর কৃষিকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় কৃষকরা উৎপাদন নিয়ে বড় ধরনের দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, জেলার বিভিন্ন এলাকায় দিন-রাত মিলিয়ে একাধিকবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকছে। নাচোল উপজেলার নেজামপুর ইউনিয়নের কৃষক মাসুদ রানা জানান, এই সময়ে জমিতে নিয়মিত পানি সেচ দেওয়া জরুরি হলেও বিদ্যুৎ না থাকায় পাম্প চালানো সম্ভব হচ্ছে না। একই চিত্র শিবগঞ্জ ও সদর উপজেলার চরাঞ্চলেও, যেখানে অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহে সেচ কার্যক্রম প্রায় অচল। এছাড়া নবাব অটো রাইস মিল ও হক অটো রাইস মিলের মালিকরা জানিয়েছেন, লোডশেডিংয়ের ফলে চাল উৎপাদন হ্রাস পাওয়ায় তাদের খরচ বেড়ে যাচ্ছে।
বিদ্যুৎ সংকটের প্রভাব পড়েছে শহরের জনজীবনেও। পৌরসভার আরামবাগ এলাকার বাসিন্দা নুরুল ইসলাম বাবু জানান, দিনে কয়েকবার বিদ্যুৎ যাওয়ায় ফ্রিজের খাবার নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ক্লাব সুপার মার্কেটের কাপড় ব্যবসায়ী আব্দুল আজিম বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় দোকান চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে এবং তীব্র গরমে ক্রেতারা বেশিক্ষণ দোকানে অবস্থান করতে পারছেন না, ফলে বিক্রি কমে গেছে।
বিদ্যুৎ বিভাগের তথ্যমতে, তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে বিদ্যুতের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গেছে যা সরবরাহের তুলনায় অনেক বেশি। নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোহামিনুর রহমান জানান, জেলায় ৪০-৪৫ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩০ মেগাওয়াট। ফলে ১০-১৫ মেগাওয়াট ঘাটতির কারণে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার হাওলাদার মো. ফজলুর রহমান জানান, গ্রামাঞ্চলে আমন ধান চাষের জন্য চাহিদা বাড়ায় পরিস্থিতি আরও সংকটাপন্ন এবং চাহিদার তুলনায় ৩০-৪০ শতাংশ বিদ্যুৎ কম পাওয়া যাচ্ছে।
এই সংকট নিরসনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার সুন্দরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে কয়েকজন চেয়ারম্যান জেলা প্রশাসক আবু সালেহ মোহম্মদ মুশাকে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। জেলা প্রশাসক তাদের বিষয়টি শীঘ্রই যথাযথ কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার আশ্বাস দিয়েছেন। কৃষি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, আমন মৌসুমে সেচে সামান্য ব্যাঘাতও ধানের চারা শুকিয়ে ফলনের ওপর বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় বিশ্লেষকরা মনে করছেন, তাপপ্রবাহজনিত বাড়তি চাহিদা ও সরবরাহ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এই সংকটকে বহুমাত্রিক করে তুলেছে।
নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো)-এর চাঁপাইনবাবগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোহামিনুর রহমান জানান, জেলায় চাহিদা ৪০/৪৫ মেগাওয়াট হলেও সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৩০ মেগাওয়াট। ফলে ১০/১৫ মেগাওয়াট ঘাটতির কারণে বাধ্য হয়ে লোডশেডিং দিতে হচ্ছে।

