বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম নতুন করে বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জ্বালানি বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাত যদি দীর্ঘায়িত হয় এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না থাকে, তবে তা বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করতে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এ বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছেন, যদি দ্রুত এই সংঘাতের অবসান না ঘটে, তবে বিশ্ব তেলবাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও বর্তমান বাজার পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে, তবুও কৌশলগত তেলের মজুত হ্রাস, শোধন সক্ষমতার সংকট এবং বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমাগত বাড়ছে।
গত জুন মাসে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একটি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছিল। সেই সময়ে ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন যে, সংঘাত অব্যাহত থাকলে বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহে এমন চাপ সৃষ্টি হতে পারে যা কেবল তেলের বাজার নয়, সামগ্রিক অর্থনীতিকেও অস্থিতিশীল করে তুলবে। তবে সেই সমঝোতা এবং যুদ্ধবিরতি শেষ পর্যন্ত টেকেনি। এর পরপরই হরমুজ প্রণালিতে পুনরায় জাহাজ চলাচল ব্যাহত হতে শুরু করে, যা বিশ্ববাজারে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে।
তবে পরিস্থিতি জটিল হওয়া সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক বাজারে এখনো বড় ধরনের অস্থিরতা লক্ষ্য করা যায়নি। এর মূল কারণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে, যুদ্ধবিরতির সময় কয়েক সপ্তাহের জন্য হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হয়েছিল। ওই সুযোগে প্রণালিতে আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল বিশ্ববাজারে পৌঁছানো সম্ভব হয়, যা তাৎক্ষণিক সরবরাহ সংকট অনেকটাই লাঘব করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজে এই অচলাবস্থা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয় এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক না হয়, তবে বিদ্যমান ভারসাম্য দ্রুত ভেঙে পড়তে পারে। এমন পরিস্থিতিতে কেবল অপরিশোধিত তেলের দামই নয়, বরং ডিজেল ও জেট ফুয়েলসহ বিভিন্ন জ্বালানির বাজারে বড় ধরনের চাপ তৈরির প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।

