পাকিস্তানের সোয়াতে বিক্ষোভের মধ্যে আত্মঘাতী হামলা, নিহত ১৪

পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের সোয়াত জেলায় একটি বিক্ষোভ কর্মসূচির মধ্যে ভয়াবহ আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববার দুপুরে কাবাল থানার সামনে এই বিস্ফোরণে অন্তত ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন। দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় আরও ২০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

সোয়াত অঞ্চলের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) ফিদা হোসেন জানিয়েছেন, হামলাকারী তার শরীরে আগে থেকে বাঁধা বিস্ফোরক ভেস্টের বিস্ফোরণ ঘটালে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। হামলায় চারজন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন।

জেলার পুলিশ কর্মকর্তা (ডিপিও) উমর খান জানান, কাবাল থানার প্রবেশপথে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা সন্দেহভাজন এক ব্যক্তিকে থামিয়ে তল্লাশি চালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় ওই ব্যক্তি নিজের শরীরে থাকা বিস্ফোরক সক্রিয় করেন, যার ফলে ঘটনাস্থলেই শক্তিশালী বিস্ফোরণটি ঘটে। ঘটনার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে এবং সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বর্তমানে হামলার কারণ ও এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে তদন্ত কার্যক্রম চলছে।

স্থানীয় সূত্রের খবর অনুযায়ী, সোয়াত উপত্যকায় সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে রোববার কাবাল চত্বরে শত শত মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। সেই কর্মসূচি চলাকালীন থানার ফটকের কাছেই এই আত্মঘাতী হামলাটি চালানো হয়। এখন পর্যন্ত কোনো সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।

এর আগে একই দিন সকালে প্রাদেশিক রাজধানী পেশোয়ারের পেশোয়ার-ইসলামাবাদ মোটরওয়ের টোল প্লাজার কাছে একটি আইইডি বিস্ফোরণে দুইজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছিলেন। এছাড়া গত ৩০ জুলাই হাঙ্গু জেলায় একটি পুলিশ চেকপোস্টে সশস্ত্র হামলায় নয়জন পুলিশ সদস্য নিহত হন। সাম্প্রতিক সময়ে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে সন্ত্রাসী হামলার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে প্রদেশটিতে বিভিন্ন হামলায় ১৫৪ জন নিহত হয়েছেন, যা জুন মাসের তুলনায় প্রায় ১০৫ শতাংশ বেশি।