দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নবনিযুক্ত সচিব মো. সাইদুর রহমান খান জানিয়েছেন, চলতি মাসেই সংস্থাটির নতুন কমিশন গঠিত হবে বলে তিনি আশা করছেন। রোববার রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। কমিশন গঠিত হওয়ার পর প্রতিষ্ঠানটিকে আরও গতিশীল ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।
নতুন সচিব বলেন, কমিশন গঠনের মাধ্যমে দুদক একটি সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান হিসেবে তার দায়িত্ব আরও কার্যকরভাবে পালন করতে পারবে। তিনি জানান, সংস্থাটির ইমেজ সংকট কাটিয়ে উঠতে এবং জনগণের আস্থা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় সব উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। এছাড়া দুর্নীতি দমন কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠাকে তিনি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবেন।
দুদক নিয়ে দীর্ঘদিনের প্রচলিত অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, অতীতের ধারা থেকে বেরিয়ে এসে সংস্থাটির কার্যক্রমে আমূল পরিবর্তন আনতে একটি ‘রূপান্তরের মিশন’ নিয়ে তারা কাজ করবেন। বর্তমান কমিশন না থাকায় জমে থাকা কাজগুলো দ্রুত সম্পন্ন করতে একটি ‘ক্রাশ প্রোগ্রাম’ নেয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে তিনি জানান। এর আগে ৩০শে জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করা মো. সাইদুর রহমান খানকে দুদকের সচিব হিসেবে পদায়ন করা হয়।
এদিকে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দুদকের মহাপরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী জানান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের সংযুক্ত আরব আমিরাতে মুক্তি পাওয়ার বিষয়ে কমিশন এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য পায়নি। তিনি দাবি করেন, এ বিষয়ে দুদকের কোনো গাফিলতি ছিল না। তিনি ব্যাখ্যা করেন, পারস্পরিক আইনি সহায়তার (এমএলএ) ক্ষেত্রে দুদক সরাসরি বিদেশি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে না; কমিশন প্রয়োজনীয় নথিপত্র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায় এবং সেখান থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তা সংশ্লিষ্ট দেশে পাঠানো হয়। বেনজীরকে কী কারণে মুক্তি দেয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য না থাকায় তিনি কোনো মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

