প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তরুণ উদ্ভাবকদের দেশের ভবিষ্যৎ হিসেবে অভিহিত করে তাদের সব ধরনের গবেষণামূলক ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনী উদ্যোগে সরকারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। রবিবার বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক বিশেষ সাক্ষাতপর্বে তিনি এ আশ্বাস প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সাক্ষাতের মূল উপলক্ষ ছিল কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড অ্যান্ড ল্যাব্রাডরে গত ২৩ থেকে ২৯ জুন অনুষ্ঠিত ‘মেট আরওভি ইন্টারন্যাশনাল আন্ডারওয়াটার রোবট কম্পিটিশন ২০২৬’-এ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) শিক্ষার্থীদের সাফল্য উদযাপন। প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১৮টি দেশের ৮৮টি দলকে পেছনে ফেলে এমআইএসটির ‘মিস্ট ম্যাভিরভ’ দলটি প্রথম স্থান অধিকার করে গৌরব বয়ে আনে। এই প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র রানার্স-আপ এবং স্বাগতিক কানাডা তৃতীয় স্থান অর্জন করেছিল।
সাক্ষাৎকালে শিক্ষার্থীরা তাদের তৈরি বিশ্বজয়ী আন্ডারওয়াটার রোবটটি প্রধানমন্ত্রীর সামনে প্রদর্শন করেন। প্রধানমন্ত্রী রোবটটির নকশা, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও ব্যবহারিক দিক সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন এবং এই উদ্ভাবন দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় উন্নীত করবে বলে মন্তব্য করেন। তিনি এই রোবটের অধিকতর উন্নয়ন, বাণিজ্যিকীকরণ এবং ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সব সরকারি সহায়তা প্রদানের আশ্বাস দেন।
শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা পড়াশোনা শেষে প্রযুক্তি খাতেই নিজেদের নিয়োজিত করার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এর প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা যদি প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপ গড়ে তুলতে চান, তবে সরকারের স্টার্টআপ কর্মসূচির মাধ্যমে তাদের প্রয়োজনীয় সব সহায়তা দেওয়া হবে।
দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার তৈরি পোশাক শিল্পের পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর, ফার্মাসিউটিক্যালস, ফার্নিচার ও কসমেটিকসের মতো সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে শক্তিশালী করে বহুমুখী রপ্তানি অর্থনীতি গড়ে তুলতে নিরলস কাজ করছে। বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে অগ্রাধিকার দিয়ে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার পাশাপাশি দক্ষ জনশক্তি তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি সেমিকন্ডাক্টর বিশেষজ্ঞদের দেশে ফিরে এই খাতের বিকাশে অবদান রাখার আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের প্রতিটি খাতে সবাই নিজ অবস্থান থেকে দক্ষতার সঙ্গে কাজ করলে বাংলাদেশ আরও দ্রুত এগিয়ে যাবে।
বৈঠকে অন্যদের মধ্যে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামসুল ইসলাম, এমআইএসটির কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম মোস্তাফিজুর রহমান এবং বিজয়ী দলের ১০ জন শিক্ষার্থী প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।

