‘শিশুদের চোখে জুলাই’ উৎসবে নানা আয়োজন ও স্মৃতিচারণ

রাজধানী ঢাকার বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে চার দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক উৎসব ‘জুলাই জাগরণ সিজন-২’-এর দ্বিতীয় দিনের আয়োজন। ‘শিশুদের চোখে জুলাই’ শিরোনামে এই উৎসবের আয়োজন করেছে সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠী।

রোববার সকাল ১১টায় শিশু শিল্পীদের কুরআন তিলাওয়াত, জুলাইয়ের গান ও আবৃত্তির মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর তাহসিন প্রিন্স ও ওরাকা বিন বাশার পরিচালিত চলচ্চিত্র “দ্যা মিরর গেইম” এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে নির্মিত বিভিন্ন তথ্যচিত্র (ডকুমেন্টারি) প্রদর্শিত হয়।

দুপুর আড়াইটায় কুরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয় মূল আয়োজন। এই পর্বে অতিথিরা বক্তব্য দেন এবং আমন্ত্রিত শহীদ পরিবারের সদস্যরা আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করেন। এতে বীর শহীদ আবদুল্লাহ আল তাহিরের মা এবং শহীদ জাবির ইব্রাহিমের বাবার আবেগঘন উপস্থিতি ও অনুভূতি প্রকাশ অনুষ্ঠানস্থলে এক হৃদয়স্পর্শী পরিবেশের সৃষ্টি করে।

অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন শেরপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ রাশেদুল ইসলাম। তিনি বলেন, গ্রাফিতি ও চিত্রাঙ্কনের মাধ্যমে শিশুদের সামনে জুলাইয়ের বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে হবে এবং সুস্থ সংস্কৃতির চর্চা ছড়িয়ে দিতে হবে। জুলাইয়ের প্রতিটি ঐতিহাসিক ঘটনার ওপর শর্টফিল্ম ও চলচ্চিত্র নির্মাণের মাধ্যমে এই জাগরণকে চিরস্থায়ী করার তাগিদ দেন তিনি।

সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর সাবেক চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই’ শব্দটি শুনলেই ২০২৪ সালের রক্তঝরা দিন ও আত্মত্যাগের স্মৃতি আমাদের চোখে ভেসে ওঠে। শহীদ আবু সাঈদ আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে পড়ে গিয়েও আবার বুক টান করে দাঁড়িয়ে যেতে হয়। ‘শিশুদের চোখে জুলাই’ আয়োজনটি নতুন প্রজন্মের মাঝে আন্দোলনের চেতনা ও শহীদদের ত্যাগের মহিমা ফুটিয়ে তুলতে বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাইমুমের ভাইস চেয়ারম্যান সিবগাতুল্লাহ, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল জাবের এবং সদস্য সচিব ফাতেমা তাসনিম জুমা। এছাড়াও সাইমুমের উপদেষ্টা আজিজুর রহমান আজাদ, সাইদুল ইসলাম, এইচ এম আবু মুসা, এস এম ফরহাদ, জাকির হোসাইনসহ সাবেক দায়িত্বশীল ও নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। পুরো অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সাইমুমের পরিচালক হাফেজ নিয়ামুল হোসাইন এবং সঞ্চালনায় ছিল শিশু উপস্থাপকেরা। চার দিনব্যাপী এই উৎসব আরও দুই দিন চলবে।