সৌদি আরবের রাষ্ট্রমালিকানাধীন তেল সংস্থা আরামকোর একটি স্থাপনায় নতুন করে হামলার ঘটনায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত ছয় সপ্তাহের মধ্যে এটিই সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৭ দশমিক ৫২ ডলারে লেনদেন হয়েছে। দিনের কোনো এক পর্যায়ে এর দাম ৯৭ দশমিক ৯৩ ডলারে গিয়ে পৌঁছায়, যা গত ২৩ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ। একইভাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তেলের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দামও ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯২ দশমিক ৬৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে। দিনের একপর্যায়ে ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৯৩ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা জুলাই মাসের শেষের পর সর্বোচ্চ দাম।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার সৌদি আরবের জিজান শহরের আরামকোর তেল স্থাপনায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। জিজানের ওই স্থাপনায় দৈনিক চার লাখ ব্যারেল তেল পরিশোধনের সক্ষমতাসম্পন্ন একটি শোধনাগার রয়েছে। কর্তৃপক্ষ বর্তমানে হামলার ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যাচাই করছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে এই হামলার দায় স্বীকার বা হামলাকারীর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধির কারণে তেলের বাজারে আগে থেকেই অস্থিরতা বিরাজ করছিল। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, গত শনিবার ইরান দুটি মার্কিন নৌযানে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। এর প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের তিনটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে। সেন্টকমের দাবি, এই জাহাজগুলো ইরানের বিপ্লবী গার্ড ও তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের অর্থায়নে ব্যবহৃত কোটি কোটি ডলারের একটি ‘ছায়া নেটওয়ার্কের’ অংশ। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাণিজ্যিক জাহাজে এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে একে ‘যুদ্ধাপরাধ’ ও ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ হিসেবে অভিহিত করেছে।

