প্রকাশ : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪: ৩৯
পটুয়াখালীর মহিপুরে মামলার প্রকৃত আসামি না হয়েও মো. জলিল হাওলাদার নামে এক ব্যক্তিকে ২০ দিন কারাভোগ করতে হয়েছে। মামলার মূল আসামির সঙ্গে নাম ও বাবার নাম হুবহু মিলে যাওয়ায় পুলিশ পরিচয় যাচাইয়ে ভুল করে তাকে গ্রেপ্তার করে। অথচ গ্রেপ্তার হওয়া জলিলের মায়ের নাম ও অন্যান্য ব্যক্তিগত তথ্যে প্রকৃত আসামির সঙ্গে বড় ধরনের অমিল রয়েছে।
সোমবার পটুয়াখালী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম আমলী আদালতের বিচারক আবু বকর সিদ্দিক বিষয়টি আমলে নিয়ে জলিল হাওলাদারের জামিন মঞ্জুর করেছেন। একই সঙ্গে মামলার বাদী ও মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) আগামী ধার্য তারিখে আদালতে সশরীরে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ব্যবসায়ী মো. আলমগীর হোসেন ২০২৩ সালে মো. জলিল হাওলাদার নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে ২ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৩ টাকা পাওনা আদায়ের দাবিতে মামলা করেন। অভিযোগ রয়েছে, পাওনা পরিশোধের জন্য দেওয়া একটি চেক ওই বছরের ২৭ মার্চ ব্যাংকে অপর্যাপ্ত তহবিলের কারণে প্রত্যাখ্যাত হয়। ওই মামলার পরোয়ানার ভিত্তিতে গত ১৯ আগস্ট মহিপুর থানা পুলিশ জলিলকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়।
গ্রেপ্তার হওয়া জলিলের জামাতা জাহাঙ্গীর আলম জানান, তার শ্বশুর একজন সাধারণ জেলে। পরিবারের দাবি, মামলার প্রকৃত আসামি বর্তমানে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। পটুয়াখালী জেলা জজ কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির বাদশা বলেন, নাম ও বাবার নামের সাদৃশ্য থাকায় নিরপরাধ এই ব্যক্তিকে ভুলভাবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের আগে মায়ের নাম, পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা ও মোবাইল নম্বর যাচাই করা পুলিশের দায়িত্ব ছিল বলে তিনি মন্তব্য করেন।
মহিপুর থানার ওসি মো. শামীম হাওলাদার স্বীকার করেছেন যে, পরোয়ানায় মায়ের নাম, ছবি বা মোবাইল নম্বর না থাকায় এই অনিচ্ছাকৃত ভুল হয়েছে। পরোয়ানা অনুযায়ী এসআই শহীদুল তাকে গ্রেপ্তার করেছিলেন। পটুয়াখালীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) সাজেদুল ইসলাম সজল জানান, বিষয়টি জানার পর তারা ওই ব্যক্তির জামিনের সুপারিশ করেন। ভবিষ্যতে এ ধরনের ভুল এড়াতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় আসামির পূর্ণাঙ্গ তথ্য উল্লেখ করার জন্য আদালতের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

