গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) আবাসিক হলগুলোতে একের পর এক সাপের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত সাপের দেখা মিললেও, সাপে কাটার মতো জরুরি পরিস্থিতির চিকিৎসার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে কোনো অ্যান্টিভেনম বা বিষের প্রতিষেধক নেই।
সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটে রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর), যখন শহীদ তিতুমীর হলে ময়লা পরিষ্কারের সময় একটি সাপ দেখা যায়। একই দিন রাতে হলটির তৃতীয় তলার ওয়াশরুমে একটি গোখরা সাপ পাওয়া গেলে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি হয়। এর আগে ১ সেপ্টেম্বর বিজয় দিবস হলের ওয়াশরুমেও সাপ দেখা গিয়েছিল, যেখানে মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে একাধিকবার সাপের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। এছাড়া স্বাধীনতা দিবস হলের নিচতলায় এবং ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানেও সাপের দেখা পাওয়ার খবর জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের ধারণা, হলের আশপাশের ঝোপঝাড় ও আগাছা দীর্ঘদিন জমে থাকায় সেখানে সাপের আবাসস্থল গড়ে উঠেছিল। সম্প্রতি সেগুলো পরিষ্কার করার ফলে সাপগুলো নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে আবাসিক ভবনের ভেতরে ঢুকে পড়ছে বলে মনে করছেন তারা। শহীদ তিতুমীর হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মুহাম্মদ তারেক বলেন, হলের চারপাশ পরিষ্কারের ফলে সাপের আবাসস্থল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেগুলো হলের ভেতরে প্রবেশ করছে। তিনি দ্রুত প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
শহীদ তিতুমীর হলের প্রভোস্ট সহকারী অধ্যাপক মো. নাছির উদ্দিন জানান, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে এস্টেট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং হলের আশপাশের এলাকা থেকে সাপ আসার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে ক্যাম্পাসে সাপের উপদ্রব থাকলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে অ্যান্টিভেনম না থাকার বিষয়টি নিয়ে মেডিকেল অফিসার ডা. লিখন চন্দ্র বালা বলেন, সাধারণত মেডিকেল সেন্টারগুলোতে অ্যান্টিভেনম রাখা হয় না। তিনি আরও জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে এখন পর্যন্ত কাউকে সাপে কাটার ঘটনা ঘটেনি। তবে কোনো শিক্ষার্থী সাপে আক্রান্ত হলে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে দ্রুত নিকটস্থ গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে। পর্যাপ্ত চিকিৎসা-সুবিধা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকির কারণে মেডিকেল সেন্টারে অ্যান্টিভেনম সংরক্ষণ করা কঠিন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

