একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি টাকার ৮ উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদন

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) মোট ১৪ হাজার ৪১ কোটি ২১ লাখ টাকা ব্যয় সম্বলিত আটটি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। বুধবার (২২ জুলাই) সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত একনেক সভায় এই অনুমোদন দেয়া হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী এবং একনেক চেয়ারপারসন তারেক রহমান। অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ৪৯৪ কোটি ২১ লাখ টাকা এবং প্রকল্প ঋণ ৩ হাজার ৫৫০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এছাড়া সভায় তিনটি নতুন প্রকল্প এবং পাঁচটি সংশোধিত প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

সভায় অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং পানি সম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি উপস্থিত ছিলেন।

অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন সমবায় মন্ত্রণালয়ের তিনটি প্রকল্প রয়েছে—সার্বজনীন সামাজিক অবকাঠামো উন্নয়ন-২ (জিএসআইডিপি-২) (১ম সংশোধন), বৃহত্তর দিনাজপুর (দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড়) জেলা সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্প এবং পল্লী সড়ক রক্ষণাবেক্ষণ ও কর্মসংস্থান প্রকল্প। এছাড়া দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দুর্যোগ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্প (৩য় সংশোধিত), সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ঢাকা- আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্প (২য় সংশোধন), বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প, সিলেট বিভাগ (৩য় সংশোধন) ও মূল্যায়ন কাম উন্নয়ন কূপ (বেগমগঞ্জ-৫) এবং দুটি অনুসন্ধান কূপ (বেগমগঞ্জ-৬ ও সুনেত্র-২) খনন প্রকল্প এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসমূহে বিদ্যমান কিডনী ডায়ালাইসিস সেন্টার ৫০ শয্যায় উন্নীতকরণ এবং জেলা সদর হাসপাতালসমূহে ১০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন (২য় সংশোধন) প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।

একই সভায় পরিকল্পনা মন্ত্রী কর্তৃক ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয় সম্বলিত ১১টি প্রকল্পের বিষয়েও অবহিত করা হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩টি আঞ্চলিক অফিস স্থাপন (২য় সংশোধিত), বরিশাল টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইন্সটিটিউট স্থাপন (২য় সংশোধিত), হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর তৃতীয় টার্মিনাল মোবাইলে নেটওয়ার্ক স্থাপন, নলকা-সিরাজগঞ্জ-সয়দাবাদ আঞ্চলিক মহাসড়কের সিরাজগঞ্জ শহর অংশ ৪ লেন ও অবশিষ্ট অংশ ২ লেনে উন্নীতকরণ (২য় সংশোধিত), পিরোজপুর-নাজিরপুর-মাটিভাঙ্গা-পাটগাতী-ঘোনাপাড়া জেলা মহাসড়ক উন্নয়ন (১ম সংশোধিত), ভুয়াপুর লিংক সড়ক নির্মাণ (২য় সংশোধিত), রূপপুর পারমানবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ ইভাকুয়েশনের জন্য সঞ্চালন অবকাঠামো উন্নয়ন (১ম সংশোধন), পূর্বাঞ্চলীয় গ্রিড নেটওয়ার্কের পরিবর্ধন এবং ক্ষমতাবন্ধন (২য় সংশোধিত) এবং গোপালগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, বরিশাল, রংপুর, জামালপুর ও যশোর জেলায় বিটাকের ৬টি কেন্দ্র স্থাপন (২য় সংশোধিত) প্রকল্প।