দেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) এবার আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই ক্যাম্পাসে রূপ নিতে যাচ্ছে। জীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো ভবনগুলো ভেঙে নতুন অবকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১ হাজার ১৫৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকার একটি বিশাল উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার।
'ঢাকা মেডিকেল কলেজের (ডিএমসি) ব্যবহার অনুপযোগী স্থাপনাসমূহ প্রতিস্থাপন ও পুনর্নির্মাণ' শীর্ষক এই প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য বুধবার (২২ জুলাই) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় পেশ করা হবে। এটি বাস্তবায়ন করবে স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর।
প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, এখানে দুটি বেজমেন্টসহ একটি ১৫ তলা আবাসিক কোয়ার্টার, ৮০০ আসনের ১৫ তলার একটি শিক্ষার্থী হোস্টেল এবং একটি ১৫ তলা আধুনিক একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হবে। এ ছাড়া থাকবে চারটি লেকচার থিয়েটার, দুটি পরীক্ষা কক্ষ, একটি সার্ভিস ভবন এবং ৮০০ মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারবেন এমন একটি চার তলা মসজিদ। প্রকল্পের আওতায় অভ্যন্তরীণ সড়ক, ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ওয়াকওয়ে এবং সীমানা প্রাচীরসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোও তৈরি করা হবে।
নতুন এই আধুনিক ক্যাম্পাসে পরিবেশবান্ধব নানা সুযোগ-সুবিধা যুক্ত করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, ফায়ার হাইড্রেন্ট, পানি সাশ্রয়ী স্যানিটেশন, অত্যাধুনিক লিফট এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী আলোকসজ্জা। দীর্ঘদিনের ব্যবহারের ফলে ঢামেকের একাডেমিক ভবন ও ছাত্রাবাসগুলো বর্তমানে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে এবং আবাসন সংকটও তীব্র আকার ধারণ করেছে। মূলত এই আবাসন ও অবকাঠামোগত সংকট দূর করে চিকিৎসা শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধীনে প্রায় ৬০টি ভবন রয়েছে। এখানে ২ হাজার ৬০০ শয্যার বিপরীতে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৩ হাজার থেকে ৪ হাজার রোগী চিকিৎসা সেবা নিয়ে থাকেন। পাশাপাশি এমবিবিএস ও স্নাতকোত্তর পর্যায়ে প্রায় দেড় হাজার শিক্ষার্থী এখানে পড়াশোনা করছেন।
স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মাজহারুল ইসলাম জানান, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের জায়গায় আধুনিক অবকাঠামো তৈরি হবে। এর ফলে চিকিৎসা শিক্ষা, গবেষণা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।

