পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে বাংলাদেশে মাদক পাচার করা একটি বড় ধরনের ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মন্তব্য করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। তিনি বলেন, এই ষড়যন্ত্রের মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশকে দুর্বল করা এবং দেশের মানুষকে মাদকাসক্ত করে তোলা। সীমান্তের ওপারে ফেনসিডিল ও বিভিন্ন মাদকের কারখানা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি মাদক দমনে প্রশাসনকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে লালমনিরহাট সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ ইউনিয়নে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এলাকার নারীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, খেলাধুলার মানোন্নয়ন ও আলোকিত লালমনিরহাট গড়ার লক্ষ্যে এই সেলাই মেশিন, খেলাধুলার সামগ্রী ও ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ত্রাণমন্ত্রী বলেন, মাদক, জুয়া ও অন্যান্য সামাজিক অপরাধের বিরুদ্ধে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। মাদকের কারণে বিভিন্ন বয়সী শিশুরাও আসক্ত হয়ে পড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, তাদের সুস্থ জীবনে ফিরিয়ে আনতে হলে অভিভাবক, সমাজ ও প্রশাসনের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন। মাদকাসক্তদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য অনেককেই নিরাময় কেন্দ্রে রাখা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, সম্প্রতি তিনি একটি নিরাময় কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন এবং সেখানে চিকিৎসাধীন শিশুদের সঙ্গে কথা বলে তাদের অবস্থার উন্নতি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। সমাজকে সুন্দর করতে হলে মাদক, জুয়া ও বাল্যবিবাহ নির্মূলে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।
এ সময় বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে ত্রাণমন্ত্রী বলেন, ‘আলোকিত লালমনিরহাট কমিটি’ গঠনের পর গত এক মাসে এই এলাকায় একটিও বাল্যবিবাহ হয়নি, যা আমাদের জন্য একটি বড় অর্জন। তিনি জানান, আগের দিন বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষকদের সঙ্গে দীর্ঘ সময় সভা করে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। অল্প বয়সী মেয়েদের বিয়ে না দিতে এবং অভিভাবকদের সচেতন করার জন্য শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বেকার নারীদের আত্মকর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ১০টি সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়। এছাড়া অসহায় ও ছিন্নমূল চার শতাধিক পরিবারের মধ্যে চাল, ডাল, লবণ, চিনি, হলুদ ও মরিচের গুঁড়াসহ বিভিন্ন শুকনো খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের হাতে প্রায় ১০০টি ফুটবল তুলে দেন মন্ত্রী।
খুনিয়াগাছ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মালেকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ প্রশাসক একেএম মমিনুল হক, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনোনীতা দাস, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুল মতিনসহ বিএনপির উচ্চপর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

