সাতক্ষীরায় বাড়ছে কুষ্ঠরোগীর সংখ্যা: নতুন শনাক্ত ৪১ জন

সাতক্ষীরায় কুষ্ঠরোগের সংখ্যা দিন দিন উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। বিরল রোগ হিসেবে পরিচিত কুষ্ঠ এখন জেলার বিভিন্ন এলাকায় নতুন করে বিস্তার লাভ করছে। গত ১২ সেপ্টেম্বর শনিবার সাতক্ষীরা শহরের পানসির কনফারেন্স রুমে সাংবাদিকদের নিয়ে আয়োজিত ‘কুষ্ঠরোগ ও এর পরিণতি বিষয়ে ওরিয়েন্টেশন’ অনুষ্ঠানে এই তথ্য তুলে ধরা হয়। বেসরকারি সংস্থা খ্রিষ্টান সার্ভিস সোসাইটির (সিএসএস) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেলায় গত কয়েক বছরে কুষ্ঠরোগীর সংখ্যায় বড় ধরনের পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। ২০১৯ সালে মাত্র ২ জন রোগী শনাক্ত হলেও ২০২০ সালে ১২ জন, ২০২১ সালে ২৯ জন, ২০২২ সালে ৫০ জন, ২০২৩ সালে ৪৯ জন এবং ২০২৪ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৮ জনে। তবে ২০২৬ সালে এসে কিছুটা কমলেও নতুন করে ৪১ জন কুষ্ঠরোগী শনাক্ত হয়েছে।

সিএসএসের তথ্যমতে, ২০২৬ সালে সাতক্ষীরার চারটি উপজেলায় মোট ৪১ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে কালীগঞ্জে ১৬ জন, আশাশুনিতে ১৪ জন, সাতক্ষীরা সদরে ৬ জন এবং শ্যামনগর উপজেলায় ৪ জন রোগী রয়েছেন। ইতিমধ্যে একজনের চিকিৎসা সমাপ্ত হয়েছে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন দেশ টিভির স্টাফ রিপোর্টার শরীফুল্লাহ কায়সার সুমন। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খ্রিষ্টান সার্ভিস সোসাইটির (সিএসএস) স্বাস্থ্য পরিচালক সাজ্জাদুর রহিম পান্থ। এ সময় বিভিন্ন গণমাধ্যমের জেলা প্রতিনিধি ও সিএসএসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, কুষ্ঠ একটি প্রাচীন রোগ এবং একে ঘিরে সমাজে নানা ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত রয়েছে। অনেকেই কুষ্ঠকে অভিশাপ বা পাপের ফল মনে করেন, আবার কেউ কেউ একে রোগ বলেই মনে করেন না। এসব অসচেতনতার কারণেই রোগীরা সময়মতো চিকিৎসা গ্রহণ করেন না। সারা বাংলাদেশেই এখনো কুষ্ঠরোগী পাওয়া যাচ্ছে জানিয়ে বক্তারা বলেন, সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে কুষ্ঠ রোগীর সংখ্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। সিএসএস ২০১৩ সাল থেকে বাগেরহাট ও সাতক্ষীরা জেলায় কুষ্ঠ নিয়ন্ত্রণে কাজ করে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরে অনুভূতিহীন দাগ, ত্বকের অনুভূতি কমে যাওয়া, হাত-পায়ে দুর্বলতা বা স্নায়ুর সমস্যার মতো উপসর্গগুলো কুষ্ঠরোগের লক্ষণ হতে পারে। দ্রুত রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করলে রোগী সুস্থ হতে পারেন, তবে চিকিৎসায় বিলম্ব হলে স্থায়ী অক্ষমতার ঝুঁকি থাকে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সিএসএস প্রজেক্ট অফিসার লেকুজ্জামান।

২০২৫ সালের ৬০ জন, ২০২৬ সালে নতুন করে কুষ্ঠরোগী শনাক্ত হয়েছে ৪১ জন।