নির্যাতিত মুসলমানদের সুরক্ষায় ওআইসিকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান

প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮: ৫৬

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মুসলমানদের ওপর চলমান নির্যাতন, নিপীড়ন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আলেম ও রাজনৈতিক নেতারা। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় শুধু বিবৃতি বা উদ্বেগের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ওআইসিসহ ৫৭টি মুসলিম দেশকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কূটনৈতিক, আন্তর্জাতিক ও মানবিক পর্যায়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। বক্তারা বলেন, বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে মুসলমানরা নির্যাতিত হলে তাদের পাশে দাঁড়ানো মুসলিম উম্মাহর নৈতিক ও মানবিক দায়িত্ব।

রাজধানীর তোপখানায় শিশু কল্যাণ পরিষদ মিলনায়তনে ‘দেশে দেশে মুসলিম নির্যাতন ও উম্মাহর করণীয়’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন বক্তারা। ‘সেভ দ্য পিপলস’ আয়োজিত এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের আহ্বায়ক মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী। মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজীর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী।

বৈঠকে বক্তারা ভারতের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, দেশটির বিভিন্ন স্থানে মুসলমানদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, মসজিদ, মাদ্রাসা এবং সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতন ও সহিংসতা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কোনো বিশেষ জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্যবস্তু করা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা এসব ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে দোষীদের আইনের আওতায় আনার এবং মুসলমানদের জানমাল ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জোর দাবি জানান।

পাশাপাশি ফিলিস্তিনে নিরীহ ও নিরস্ত্র নারী-শিশুসহ বেসামরিক মানুষের ওপর বর্বরোচিত হামলা ও হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানিয়ে ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়াতে ওআইসি ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কার্যকর ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান তারা। একই সঙ্গে সেখানে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং মানবিক সহায়তা নির্বিঘ্ন করার উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সভাপতির বক্তব্যে মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী বলেন, মুসলিম বিশ্বের পারস্পরিক সহযোগিতা ও ঐক্য সুদৃঢ় করতে হলে ‘মক্কা চুক্তি’র চেতনা বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি। এই চুক্তিকে কেবল কয়েকটি দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে নির্যাতিত মুসলমানদের পাশে দাঁড়াতে সব মুসলিম রাষ্ট্রের মধ্যে একটি কার্যকর সহযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে। আলেম ও রাজনৈতিক নেতারা একমত প্রকাশ করে বলেন, নির্যাতিত মুসলমানদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু মুসলিম বিশ্বই নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের বিবেককে জাগ্রত হতে হবে।