পাবনায় কুকুরের কামড়ে নারী ও শিশুসহ আহত ১১

পাবনা শহরের লস্করপুর রেলওয়ে স্টেশন ও এর আশপাশের এলাকায় হঠাৎ কুকুরের উপদ্রব বৃদ্ধি পাওয়ায় নারী, শিশুসহ অন্তত ১১ জন পথচারী আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত এই হামলার ঘটনাগুলো ঘটে। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত পাবনা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা ও র‌্যাবিস প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হয়েছে।

পাবনা সদর হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. রফিকুল হাসান জানান, কুকুরের কামড়ে আহত মোট ১১ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। এদের মধ্যে তিনজন চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছেন। বাকি সাতজন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর। হাসপাতালে পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন মজুত রয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, লস্করপুর রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই বেওয়ারিশ কুকুরের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা জুঁই আক্তার জানান, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এলাকায় হঠাৎ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং চোখের সামনেই ১৫-২০ জনকে কুকুর আক্রমণ করে। এক শিশুর চোখ উপড়ে ফেলার মতো ভয়াবহ ঘটনাও ঘটেছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, বারবার কর্তৃপক্ষকে জানানোর পরও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এমনকি ঘটনার পরদিন সকালেও কুকুরগুলোকে এলাকায় ঘুরতে দেখা গেছে।

এ বিষয়ে পাবনা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. জহুরুল ইসলাম জানান, তিনি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে দ্রুত স্পটে গিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। পাবনা পৌরসভার প্রশাসক মনিরুজ্জামান (অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক) জানিয়েছেন, তিনি বিষয়টি জানার পরপরই ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিচ্ছেন। তবে পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম জানান, তিনি এ ধরনের কোনো ঘটনা সম্পর্কে জানেন না। এলাকাবাসী এখন দ্রুত বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রান্তদের যথাযথ চিকিৎসার নিশ্চয়তা চেয়ে কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে পাবনা সদর হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. রফিকুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যা থেকে বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল পর্যন্ত লস্করপুর রেলওয়ে স্টেশন ও আশপাশের এলাকায় কয়েকটি কুকুর হঠাৎ পথচারীদের ধাওয়া করে এলোপাতাড়ি কামড়াতে শুরু করে। এতে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ অন্তত ১১ জন আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে পাবনা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তা