দুদকের শীর্ষ পদের জন্য সচিবালয়ে প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পরবর্তী নেতৃত্বে কারা আসছেন, তা নিয়ে এখন নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। এবার সংস্থাটির চেয়ারম্যান ও কমিশনার পদে নিয়োগ পাওয়ার জন্য নজিরবিহীন আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সার্চ কমিটির কাছে এখন পর্যন্ত তিন শতাধিক আবেদনপত্র জমা পড়েছে, যা বর্তমানে যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে।

আবেদনকারীদের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি, সাবেক সচিব, অবসরপ্রাপ্ত সামরিক ও পুলিশ কর্মকর্তা, আইনজীবী, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং প্রশাসনের অভিজ্ঞ কর্মকর্তারা রয়েছেন। এত বিপুলসংখ্যক আবেদন জমা পড়ায় এবার দুদকের নেতৃত্ব নির্বাচন প্রক্রিয়াটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এদিকে, নিয়োগ পেতে মরিয়া হয়ে ওঠা বেশ কয়েকজন প্রার্থী সচিবালয়ে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, কয়েকজন অবসরপ্রাপ্ত জজ ও সাবেক সচিব স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে দেখা করেছেন। কেউ কেউ আবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতেরও চেষ্টা করছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা জানান, প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময়ের দুজন অবসরপ্রাপ্ত জজ ও কয়েকজন সাবেক সচিব মন্ত্রণালয়ে এসেছিলেন, যাদের মধ্যে একজন জজ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

তবে এই দৌড়ঝাঁপকে ভালো চোখে দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। সাবেক সচিব ও জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ একেএম আবদুল আউয়াল মজুমদার আমার দেশকে বলেন, দুদকের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদের জন্য যারা সরকারের কারো সঙ্গে দেখা করছেন, তাদের অযোগ্য হিসেবে গণ্য করা উচিত। তিনি আরও বলেন, কেউ যদি সচিবালয়ে গিয়ে থাকেন, তাহলে তার ব্যক্তিগত স্বার্থ আছে। যারা লবিং করে এসব পদে যেতে চান, তাদের দিয়ে ভালো কিছু আশা করা যায় না। বরং যারা সৎ এবং দুর্নীতি কমানোর নেশা আছে, তাদেরই এ পদে আনা উচিত।

গত চার মাস ধরে কার্যত অচলাবস্থায় থাকা এই দুর্নীতিবিরোধী সংস্থাটির নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন আইনজ্ঞ ও সুশাসন নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিরা। সার্চ কমিটির সূত্রমতে, প্রার্থীদের অতীত কর্মজীবন, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, আর্থিক স্বচ্ছতা, নৈতিক অবস্থান এবং জনপরিসরে গ্রহণযোগ্যতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কোনো প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিতর্ক বা স্বার্থের সংঘাত থাকলে তা মূল্যায়নের আওতায় আনা হচ্ছে। নতুন নেতৃত্বের সামনে জনগণের আস্থা পুনর্গঠন, তদন্তে বৈষম্য দূর করা এবং প্রযুক্তিনির্ভর তদন্তব্যবস্থা গড়ে তোলার মতো বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

দুদকে অচলাবস্থা নিরসনে গত ২২ জুন আপিল বিভাগের বিচারপতি রেজাউল হককে সভাপতি করে পাঁচ সদস্যের সার্চ কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি রাজিক আল জলিল, মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক নুরুল ইসলাম, পিএসসির চেয়ারম্যান মোবাশ্বের মোনেম এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। এই কমিটি যাচাই-বাছাই শেষে ছয়জনের নামের তালিকা রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠাবে, যার মধ্য থেকে তিনজনকে কমিশনার এবং একজনকে চেয়ারম্যান নিয়োগ দেওয়া হবে।

দেশের একমাত্র দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা দুদক গত চার মাস ধরে কার্যত অচলাবস্থায় আছে। নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগ না হওয়ায় মামলা দায়ের, আদালতে চার্জশিট দাখিল, সম্পত্তি জব্দ, আসামিদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা এবং গ্রেপ্তারের মতো গুরুত্বপূর্ণ আইনি কার্যক্রম সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। গত ২ জুলাই দুদক চেয়ারম্যান এবং কমিশনারের জন্য আ

সাবেক এই আমলা বলেন, যারা ভালো মানুষ, দুদকের মতো প্রতিষ্ঠানে তাদের অফার করলেও তারা ১০ বার ভাববেন, এখানে যাওয়া উচিত হবে কি না। তিনি বলেন, এসব পদে লবিং করে যারা যেতে চান, তাদের দিয়ে ভালো কাজ আশা করা যায় না। সবকিছুর ঊর্ধ্বে উঠে যারা সৎ এবং যাদের মধ্যে দুর্নীতি কমানোর নেশা আছে, তাদের এ পদে আনা।