বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও গর্ভপাত: পটুয়াখালীর যুব জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা

পটুয়াখালী সদর উপজেলা যুব জামায়াতের সভাপতি মো. শহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে এক বিধবা নারীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক গর্ভপাতের অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি আমলে নিয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত জামায়াত নেতা পলাতক রয়েছেন।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, ভুক্তভোগী ওই নারী সাত বছর আগে স্বামীকে হারিয়ে একমাত্র সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বসবাস করছিলেন। এই সুযোগে অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম তাকে কুপ্রস্তাব দিতে থাকেন। এক পর্যায়ে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে এবং নিজের বোন দিয়ে দেখাশোনা করানোর কথা বলে গত ২৪ মার্চ সকালে তাকে পটুয়াখালী শহরের শের-ই-বাংলা সড়কের একটি বাসায় নিয়ে যান। সেখানে তাকে আটকে রেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় এবং পরবর্তীতে ভয়ভীতি দেখিয়ে একাধিকবার একই কাজ করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, ভুক্তভোগী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে তাকে গর্ভের সন্তান নষ্ট করার জন্য চাপ দেওয়া হয়। তিনি রাজি না হওয়ায় গত ১৮ মে চিকিৎসক দেখানোর কথা বলে তাকে একটি ক্লিনিকে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জোরপূর্বক ওষুধ সেবন করানো হলে পরদিন তিনি জানতে পারেন যে তার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে গেছে।

বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. হুমায়ুন কবির জানান, গত ২২ জুলাই ভুক্তভোগী নারী নিজে বাদী হয়ে পটুয়াখালী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলাটি দায়ের করেন। ট্রাইব্যুনালের বিচারক শিরিন নিলা অভিযোগটি আমলে নিয়ে সদর থানাকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের বানিয়াকাঠী গ্রামের আবুল কালামের ছেলে। তিনি যুব জামায়াতের সভাপতির পাশাপাশি পটুয়াখালী ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন।

পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, আদালতের আদেশের কপি হাতে পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অন্যদিকে পটুয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির নাজমুল আহসান জানান, বিষয়টি বিচারাধীন থাকায় এখনই কোনো মন্তব্য করা ঠিক হবে না। তবে দোষী প্রমাণিত হলে দলীয় ফোরামে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।