২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে আর্জেন্টিনা। গত রবিবার রাতের এই বেদনাদায়ক হারের পর ফুটবল বিশ্বে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল যে, আন্তর্জাতিক ফুটবলকে হয়তো এখনই বিদায় জানাতে যাচ্ছেন আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক লিওনেল মেসি। তবে ফুটবলপ্রেমীদের জন্য স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে স্পোর্টস চ্যানেল বেইন স্পোর্টসের প্রতিবেদন। সেখানে বলা হয়েছে, মহাতারকা মেসির বিদায়ের সময় এখনও আসেনি। আপাতত সিদ্ধান্ত হয়েছে, আগামী আরও কয়েক মাস জাতীয় দলের জার্সি গায়ে খেলা চালিয়ে যাবেন তিনি। এরপরই ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানবেন এলএমটেন।
আর্জেন্টিনার স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, দেশের ইতিহাসের অন্যতম সেরা এই ফুটবলারকে মাঠ থেকে সরাসরি বিদায় জানানোর সুযোগ দিতে আর্জেন্টিনায় একটি বিশেষ ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এই বিদায়ী ম্যাচের ঘোষণা আগেভাগেই দেওয়া হবে, যাতে হাজার হাজার সমর্থক মাঠে উপস্থিত থেকে তাদের প্রিয় অধিনায়ককে একটি রাজকীয় ও স্মরণীয় বিদায় জানাতে পারেন। প্রায় দুই দশক ধরে দেশের প্রতিনিধিত্ব করা মেসির এই বিদায়ী ম্যাচটি আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হয়ে থাকবে।
২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে দলের পরাজয় ঘটলেও আর্জেন্টিনার ফুটবলে মেসির অবদান চিরস্মরণীয়। ৩৯ বছর বয়সেও এই বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার হয়ে মূল ভূমিকায় ছিলেন তিনি। তার দারুণ নৈপুণ্যেই টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠে আলবিসেলেস্তেরা। উত্তর আমেরিকার এই বিশ্বকাপে ৮টি গোল এবং ৪টি অ্যাসিস্ট করে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে দ্বিতীয় স্থানে থেকে টুর্নামেন্ট শেষ করেন মেসি। এর আগে ২০২২ সালে তার নেতৃত্বেই ৩৬ বছরের ট্রফিখরা ঘুচিয়ে বিশ্বকাপ জিতেছিল আর্জেন্টিনা। এছাড়া ২০২১ কোপা আমেরিকা, ২০২২ ফিনালিসিমা এবং ২০২৪ কোপা আমেরিকা জয়ের গৌরবও রয়েছে তার ঝুলিতে।
আর্জেন্টিনার জাতীয় দলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ১২৫টি গোল, সবচেয়ে বেশি ৬৫টি অ্যাসিস্ট এবং রেকর্ড ২০৭টি ম্যাচ খেলার কীর্তি গড়েছেন মেসি, যা নিকট ভবিষ্যতে ভাঙা প্রায় অসম্ভব। মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচের কোনো আনুষ্ঠানিক তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, আর্জেন্টিনার আসন্ন আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোর জন্য কোচ লিওনেল স্কালোনির স্কোয়াডে নিয়মিতই ডাক পাবেন তিনি। আর্জেন্টাইন ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ) চায় তাদের ইতিহাসের সেরা নায়কের বিদায়ের জন্য একটি নিখুঁত মঞ্চ তৈরি করতে। কোনো আকস্মিক প্রস্থান নয়, বরং পুরো দেশের মানুষকে আনুষ্ঠানিকভাবে ধন্যবাদ জানানোর সুযোগ দিতেই এই বিশেষ পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তাই বিদায়ের সুর বাজলেও এখনই থামছেন না মেসি; তার এই বিদায় কেবল কোনো সংবাদ সম্মেলন বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বার্তায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা রূপ নেবে পুরো আর্জেন্টিনার এক জাতীয় উৎসবে।

